সিরাজগঞ্জের মুড়ি ভাজার কারিগররা রোজায় ব্যস্ততায় ভরে উঠছে গ্রাম Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ রোজার মাস মানেই সিরাজগঞ্জের কালিয়া গ্রামে মুড়ি ভাজার কারিগরদের দাপুটে ব্যস্ততার সময় শুরু হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের ঘরবাড়ির মধ্যে চলছে মুড়ির ভেজানো ও প্রস্তুতির কাজ। এই সময়, ছোট ছোট এই গ্রামে তৈরি মুড়ি বাজারে পৌঁছে যায় শহরের দোরগোড়ায় এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে, ফলে মানুষের প্রিয় খাদ্য হিসেবে এটি স্থান করে নেয়। অনিকা সাহা, যিনি একসময় পরিবারে খাবার যোগাড় করতে ঘরে বসেই কাজ করতেন, আজ কালিয়া গ্রামের একজন জনপ্রিয় মুড়ি ভাজার কারিগর। তিনি বলতেন, সারা বছরই আমাদের জমজমাট কাজ থাকে, তবে রোজার সময় সেটি আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। মানুষ স্বয়ং এসে চাল নিয়ে মুড়ি ভেজে নেয় বা আগাম জানিয়ে দেয় যাতে তাদের জন্য মুড়ি প্রস্তুত রাখা সম্ভব হয়। শান্তা রানী সাহা জানান, এই ব্যবসার মাধ্যমে তার পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এসেছে। তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে এই কাজের ফলে। এক যুগ ধরে তারা এই ব্যবসা করে যাচ্ছেন এবং পুরনো আর্থিক ঝামেলা অনেকটাই মিটে গেছে। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। আবুল হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ কেজি চাল নিয়ে আসি মুড়ি ভাজার জন্য। নিজের জন্য বা বন্ধু-বান্ধবের জন্য এসব চাল ভোজনে ব্যয় হয়। প্রতি কেজি চালের জন্য তাঁকে ৩০ টাকা মুজুরি দিতে হয়। সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুর মহল্লার আব্দুস ছামাদ বলেন, বাজারের মুড়িতে অনেক কেমিক্যাল মিশে থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে কালিয়া গ্রামের কারিগররা যে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মুড়ি ভেজে থাকেন, এ কারণে সবাই তাঁদের কাছে ভরসা করে আসছে। এই রেওয়াজ, শুধু আর্থিক জীবনযাত্রার জন্য নয়, বরং কারিগরদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সকাল থেকে রাত, রোজার ব্যস্ততায় তারা কাজ করে যাচ্ছেন আর তার বিনিময়ে পরিবারে আসছে অর্থ, আনন্দ এবং গ্রামের সুগন্ধি মুড়ির সুখ-স্মৃতি। SHARES সারাদেশ বিষয়: