কুমিল্লার তিনজন নতুন মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেলার মানুষ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

কুমিল্লায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করার ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার মানুষের মধ্যে আনন্দের অাঁদোছোঁয়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে, তিনজন নেতার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে চারদিকে। এই তিনজন হলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এবং কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তাদের এই নিয়োগে জেলাজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে, মিষ্টি বিতরণ এবং উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন গ্রামে ও শহরে।

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ, যিনি গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়ে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন, এখন আবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে ফেরার পর কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ধানের শীষের প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হন। এই নির্বাচনে তিনি অর্ধলাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন, তাঁর পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট। এর আগে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে হুইপ ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘দাদা ভাই’ নামে পরিচিত কায়কোবাদকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে পুরো এলাকা উৎসবের পরিপূর্ণ আনন্দে ভরে গেছে।

অপরদিকে, বরুড়ায় ৭৮ বছর পর প্রথমবারের মতো কেউ মন্ত্রী হওয়ায় সেখানে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন জাকারিয়া তাহের সুমন, যিনি ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক। বরুড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন বলেন, “৭৮ বছর পরে বরুড়ার মানুষ আজ গর্বিত, সরকারি মন্ত্রী পেয়ে আমরা ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন দেখতে পাব বলে আশাবাদী।”

তৃতীয় জন হলেন, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, যিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় মনোয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, দলের অনুরোধে তিনি মনোনয়ন ফিরিয়ে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি কুমিল্লা-৯ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালে, দীর্ঘদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকছেন। তিনি ২০২৫ সালে বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন।

জেলা জুড়ে এই তিনজনের মন্ত্রীত্বের খবরের মাঝে আনন্দের ঢল নেমে এসেছে। নেতা-কর্মীরা বলছেন, এই নিয়োগের ফলে কুমিল্লায় নতুন উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জেলার ব্যাপক অগ্রগতি অর্জিত হবে। এর ফলে এখানকার মানুষের মধ্যে নতুন স্বপ্নের আলো জ্বলছে।