নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চীনের মাধ্যমে রাশিয়ায় বিদেশী গাড়ির প্রবাহ অব্যাহত Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার বাজারকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টাকে বাধা দিতে পারছে না। এর প্রধান কারণ হলো, চীনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশাল ধরনের অপ্রচলিত বাণিজ্য পথ, যার মাধ্যমে রুশ বাজারে বিদেশী গাড়ির প্রবাহ অবাধে চালু রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো যেমন টয়োটা, মাজদা, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এবং বিএমডব্লিউ সরাসরি রাশিয়ায় না বিক্রি করলেও তাদের গাড়িগুলো এখন চীনের মধ্যস্থতায় নিয়মিতভাবে রাশিয়ার শোরুমগুলোতে পৌঁছে যাচ্ছে। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা অতিক্রম করে বিকল্প পথের মাধ্যমে রুশ অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশ্লেষকেরা জানাচ্ছেন, অটোমোবাইল গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অটোস্ট্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমা ও জাপানি কোম্পানিগুলো সরাসরি রাশিয়ায় ব্যবসা বন্ধ করলেও দেশের বাজারে তাদের গাড়ির চাহিদা বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং রুশ ডিলাররা সরাসরি নির্মাতাদের উপর নির্ভর না করে, চীনের শক্তিশালী ব্যবসা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গাড়ি সংগ্রহ করছে। এর বড় অংশটিই এসেছে চীনে তৈরি বিদেশী শীর্ষ ব্র্যান্ডের গাড়ির। যখন আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো তাদের চীনা অংশীদারদের সাথে মিলে স্থানীয় বাজারের জন্য গাড়ি তৈরি করে, তখন এই গাড়িগুলোর এক বড় অংশ গোপনে রাশিয়ার সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া, অন্যান্য দেশ থেকে উৎপাদিত গাড়িও চীনের বড় বড় বন্দরগুলো ব্যবহার করে ট্রাঞ্জিট করে মস্কোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। নিষেধাজ্ঞার জটिलতা এড়াতে ব্যবসায়ীরা অভিনব ও চালাকিপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ও চকচকে গাড়িগুলিকে কাগজে-কলমে ‘ব্যবহৃত গাড়ি’ হিসেবে নিবন্ধন করা হয়। চীনে প্রথমবার নিবন্ধনের পর সেগুলোকে পরে ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ বা ব্যবহৃত হিসাবে দেখিয়ে রাশিয়ায় রফতানি করা হয়। এর ফলে মূল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না এবং তাঁরা আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকেন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার বিদেশী গাড়ির অর্ধেকের বেশি এই চীনের মাধ্যমে প্রবেশ করছে। ২০২২ সালের যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এর মাধ্যমে সাত লাখের বেশি বিদেশী ব্র্যান্ডের গাড়ি রাশিয়ায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ এবং ভক্সওয়াগনের মতো শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতারা দাবি করছে, তারা রাশিয়ায় কোনও ধরনের পণ্য বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে এবং অননুমোদিত রফতানি বন্ধে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। তবে, তারা স্বীকার করছে যে, তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে এই গোপন সরবরাহ বন্ধ রাখা তাদের জন্য কঠিন এবং সময় দাবি করে। বিএমডব্লিউ বলেছে, তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এই গাড়িগুলো রাশিয়ায় প্রবেশ করছে। ডিলাররা বলছেন, ধনী রুশ গ্রাহকদের মধ্যে পশ্চিমা ব্র্যান্ডের প্রতি চরম আকর্ষণ থাকায়, তারা এই ‘প্যারালাল ইমপোর্ট’ বা উভয় পথে গাড়ি আনত থাকছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই গোপন বিকল্প পথে বাণিজ্য চাপানো নিয়ে নজরদারি বাড়ালেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সংখ্যাও এত বেশি যে পুরোপুরি বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বর্তমানে গাড়ির প্রচুর সরবরাহ থাকায় এবং রফতানিতে ভর্তুকি সুবিধা ব্যবহারে ব্যবসায়ীরা অন্নপ্রাণ হয়েছেন। ফলে, বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ আর নিষেধাজ্ঞার চাপের মাঝেও, রুশ রাস্তায় এখনো আধুনিক ও দামী বিদেশী গাড়ির দাপট চলছে, যা রাশিয়ার অস্থিরতাকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: