ঝিনাইদহের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল, কিছু পণ্যতে বৃদ্ধি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

রমজান মাসের আগে ঝিনাইদহের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশ কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলা সাধারণত সাধারণ মূল্যে বিক্রি হলেও, ছোলাবুট, লেবু, বেগুন, পেঁয়াজ ও শসার দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। জেলার অন্যান্য বাজারেও শাক-সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। রমজানের সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের কঠোর মনিটরিং ও নজরদারি জোরদারের দাবি উঠছে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা শহরের নতুন হাটখোলা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণত দেশের অন্যান্য বাজারের মতো এ বাজারেও সবজি ও অন্যান্য পণ্যের দাম সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সারেজমিনে দেখা গেছে, আলুর মূল্য কেজি প্রতি ২০ টাকা, রসুনের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁয়াজের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কিছু কিছু সবজির দাম একটু বেড়ে গেছে, যেমন বেগুনের কেজি মূল্য ৬০ থেকে ৮০ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা, করলার মধ্যে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

অতীতে কিছু পণ্যের দাম আরও বেশি ছিল। গত সপ্তাহের শেষ দিনগুলোতে বেগুন কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লেবু হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ৯০ টাকা, এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে রমজান শুরুর আগে এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে।

সবজির পাশাপাশি রমজানে চাহিদা বাড়ার কারণে খেজুর, চিনি, আখের গুড়, ছোলাবুট ও লেবুর দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। খেজুরের দাম এখন সাড়ে ৩০০ টাকা কেজি, অন্যদিকে লাল চিনি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সাদা চিনি ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ডোমেস্টিক (দেশি) ছোলার মূল্য ৯০ থেকে ১০০ টাকা, আর আমদানিকৃত ছোলা ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা নাহিদ হোসাইন বলেন, “রমজান আসার আগে অন্যান্য বছর যেমন দাম বেড়ে যায়, এবার দেখছি না। গত রমজানেও বাজারে স্বস্তি ছিল। আশা করছি, নতুন সরকার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।” অন্য এক ক্রেতা দিলারা পারভীন বলেন, “কাগজি লেবু, শসা, বেগুন ও করলার দাম বেশ বেড়েছে। পেঁয়াজের দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন, বাজার মনিটরিং আরও কঠোর করতে হবে।”

বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, রসুন, আদা, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছোলাবুট, ভোজ্যতেল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম স্থির আছে এবং কোনও বড় সিন্ডিকেটের সংঘটন না থাকায় দাম বেশি ওঠেনি। রমজানের জন্য বাজারে বেচাকেনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, “রমজান আসার প্রাক্কালে বাজারে অভিযান শুরু হয়েছে। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে আমরা বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রেখেছি এবং সবজির বাজার, মুরগি ও মাংসের দোকানসহ ইফতারসামগ্রী বিক্রেতাদের উপর নজরদারি চালাচ্ছি। রমজান মাসজুড়ে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে।”