যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ফের বৈঠক জেনেভিতে অনুষ্ঠিত হবে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

পরমাণু বিষয়ে উত্তেজনা চলাকালীন, আবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা জেনেভিতে। এ বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রতিনিধিসহ জেনেভায় পৌঁছে গেছেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি তার আগের বৈঠকের মতোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে দুই পক্ষই পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই বৈঠকটিতে যেনো তিনি পরোেক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম দফার বৈঠকে ওমানে, ইরান ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, এখন তারা আরও বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য চুক্তির জন্য দৃষ্টিশীল প্রস্তাব রাখছেন। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হয়, তবে কোনও সমঝোতা হবে না। তেহরান দাবি করেছে, চুক্তি হলে তা অবশ্যই দেওয়া-নেওয়ার ভিত্তিতে হতে হবে এবং তারা শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি মানতে রাজি নয়।

এদিকে, ওমানের মধ্যস্থতায় এই বৈঠকের পাশাপাশি, ব্রিটিশ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে, যাতে উত্তেজনা আরও কমে আসতে পারে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এই বৈঠকটির সহ-আয়োজক হিসেবে থাকছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেরড কুশনার, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা।

প্রসঙ্গত, বৈঠকের আগে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আলোচনায় পরোক্ষভাবে থাকবেন। তিনি মনে করেন, ইরানও চুক্তিতে আগ্রহী। তবে, ইরান বলছে, নিষেধাজ্ঞা উঠানো ছাড়া কোনও সমঝোতা নয়; আবার শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য তাদের দাবিও অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএয়ার) প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দেখা হয়েছে, যেখানে তারা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর পরিদর্শন ও প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরান মুখে বলছে, বিকিরণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য অবশ্যই নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলা হবে। তবে, ওয়াশিংটনের অবস্থান যদি আরও কঠোর হয়, তাহলে ইরান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন যুদ্ধসজ্জিত নৌযান ও বিমানবাহী রণতরী পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ আবার নতুন করে পারস্য উপসাগরে আরও একটি বড় নৌ বাহিনী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে, ইরান কড়া সতর্ক করে দিয়েছে যে, যদি হুমকি প্রদান করে, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালাতে প্রস্তুত।

হরমুজ প্রণালি ও চারপাশে সামরিক মহড়া চালিয়ে এই উত্তেজনাকে আরো তীব্র করে তুলেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, এই মহড়া পরিচালনা করা হয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায়। এর আগে, দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অপরদিকে, মার্কিন দেওয়া বিভিন্ন নৌবহর ও সৈন্যবাহিনী মোতায়েনের মাঝে, ইরানের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যগুলোও নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে। আফগানিস্তান ও ইরাকের শিয়া এবং সunnি মুসলিম সামরিক গোষ্ঠীগুলো ইরানের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ইরানে মার্কিন হামলা হলে, তারা আত্মরক্ষার উপায় হিসেবে ইরানের সহযোগিতা করবে। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে বলছেন, এতে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানই তাদের অভিমত।

তালেবান আরও জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধের পক্ষে নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাসী। তারা বলেছে, ইসরায়েল ও মার্কিন হামলার সময়ে ইরানের প্রতি তাদের সহানুভূতি ছিল। তারা ভবিষ্যতেও ইরানের জন্য সমর্থন দিতে প্রস্তুত, তবে যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ পথে সমাধানে বিশ্বাসী।