যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী, নতুন সরকারের তা পর্যালোচনার দাবি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এক hurriedভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, এই চুক্তিতে দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে মার্কিন স্বার্থকেই একতরফাভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালাও লংঘন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীতে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) আয়োজিত এক আলোচনায় বক্তারা এই চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের জন্য নতুন গঠিত সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান। বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ ও শিল্পোদ্যোক্তারা চুক্তির নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দাম যখন সেখানে প্রচলিত মূল্যের চেয়ে কম হবে, তখন যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। এতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতার কষাঘাতে পড়বেন। বড় সুযোগের কথা বললেও, লুকানো শর্তগুলো দেশের অর্থনীতির জন্য সৃষ্টি করতে পারে উদ্বেগ। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) জ্যেষ্ঠ ফেলো ড. মোস্তাফা আবিদ খান চুক্তির আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তির জন্য সংসদের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা এক ধরনের অবিচার। দেশের অরাজনৈতিক সরকার এই বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রেখে, পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। এর পাশাপাশি, তিনি অভিযোগ করেন যে, যেখানে দেশের স্বার্থ ছিল, সেখানে ডব্লিউটিওর নীতিমালা মানা হয়নি, বরং মার্কিন স্বার্থের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনও বলেন, এই চুক্তি অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যে, তৎপরতার সঙ্গে সই করা হয়েছে, যেখানে রপ্তানিকারকদের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী ড. সেলিম রায়হান চুক্তির অস্পষ্টতা নিয়ে সমালোচনা করেন, বিশেষ করে মার্কিন কটন ব্যবহারের বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়ে বিভ্রান্তির কথা বলেন। তাঁর মতে, এই চুক্তিতে মার্কিন অর্থনীতি নিরাপত্তার জোর দেওয়া হয়েছে, এবং সাধারণ শুল্ক কাঠামোর চেয়ে পাল্টা শুল্কের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে, র্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক পরামর্শ দেন, ভবিষ্যত আলোচনা ও সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অভিজ্ঞ আইনি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা উচিত। বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এবেক্স ফুটওয়্যার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, এই চুক্তি ভারতে সংসদীয় পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা ও অনুমোদনের পরে দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তিনি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন ট্যারিফের সিদ্ধান্ত এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। ফজলুল হক, প্লামি ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বলেন, চুক্তির প্রত্যাশিত সুবিধাগুলো বাস্তবে খুবই সীমিত। তাই নতুন সরকারের উচিত হবে সকল অংশীজনের মতামত নিয়ে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা বা সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া। সর্বমোট, আলোচকদের মতে, দেশের স্বার্থ ও সক্ষমতা না বিবেচনা করে এমন কোনো চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই এর ওপর যথাযথ পর্যালোচনার দাবি জোরালো। SHARES অর্থনীতি বিষয়: