আর্জেন্টিনায় মধ্যবিত্তের ঋণের জালে বন্ধি: দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রামে চড়া সুদের ধার Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দেশটির একসময় সচ্ছল মধ্যবিত্ত সমাজ এখন টিকে থাকার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দিচ্ছে, তবে মাঠের বাস্তব চিত্র মারাত্মক। সাধারণ মানুষ এখন কেবল বিলাসিতার কথা ভাবছেন না, বরং জীবন জীবিকার জন্য দৈনন্দিন খাদ্য সংগ্রহেও চড়া সুদের ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আর্জেন্টিনার সাধারণ নাগরিকেরা এই ঋণের চক্রে আটকে গিয়ে কীভাবে জীবন সংগ্রাম করছেন তার একটি করুণ চিত্র। ডিয়েগো নাকাসিওর মতো অসংখ্য মধ্যবিত্ত পরিবার, যারা একসময় কঠোর পরিশ্রমে বাড়ি এবং গাড়ি করেছিলেন, এখন অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষত-বিক্ষত। তারা মাসের শুরুতেই খরচের টাকা চালাতে ব্যাংক বা অন্য অর্থসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠানের উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আগে যা কিছু ছিল সেগুলো এখন ঋণের জালে বন্দি হয়ে পড়েছে, যেখানে আগের দেনা মেটাতে পুনরায় নতুন ঋণ করে জীবন চালাতে হচ্ছে। এই চিত্রটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দুর্বিষহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই সংকটের মূল কারণ হলো জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া এবং হঠাৎ করে স্থবির হয়ে পড়া বেতন কাঠামো। যদিও সরকারি দপ্তরগুলো বলছে মুদ্রাস্ফীতির হার কিছুটা কমে এসেছে, বাস্তবে সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাপনের মূল খরচ—বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধ—প্রায়ই নাগালের বাইরে চলে গেছে। অন্যদিকে, শিল্পখাত ও অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রমাগত ধস নেমে আসছে, ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ছোট-বড় দোকানপাটও ঝরে পড়ছে। এর ফলে শ্রমবাজারে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতাকে আরও গভীর করে তুলছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ভেঙে বা অন্যের কাছ থেকে ধার করে সংসার চালাচ্ছেন। দেশের সুপারমার্কেটগুলোতে বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ পরিস্থিতির কারণ শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন চালানোর জন্য অর্থের তীব্র অভাবও এর জন্য দায়ী। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সংকটের সমাধানে কেবল কাগজে কলমের অঙ্ক পরিবর্তন হলেও চলবে না; সাধারণ মানুষের বাস্তব আয়ের সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির তুলনা করে আয় বৃদ্ধি করতে না পারলে, এই ঋণের সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচক উন্নতি করলেও মানুষের জীবনমান উন্নত না হলে, এই পরিস্থিতি দুর্বিষহ অবস্থা থেকে উত্তরণ অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞ লুসিয়া কাভালেরো জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত আয়ের সাথে মূল্যস্ফীতির যোগজোরে সমঞ্জসতা স্থাপন না হয়, ততক্ষণ এই ঋণনির্ভরতা ও সামাজিক অস্থিরতা বেড়েই চলবে। বর্তমানে ব্যক্তিগত ঋণের পরিশোধে ব্যর্থতার হার গত দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। অন্তহীন শ্রমে জীবন চালানো ছাড়াও দুই বেলা খাবারের নিশ্চয়তা না থাকায় আর্জেন্টাইন মানুষ এখন এক দুঃসহ জীবনযাপনে আবদ্ধ। এই পরিস্থিতি তাদের জীবনকে করেছে এক অত্যন্ত কঠিন, যেখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্বপ্ন হারাতে বসেছে প্রত্যেকে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: