স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত দেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

নবগঠিত সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে শূন্য পদগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনমুখী ও গণতান্ত্রিকভাবে শক্তিশালী করা, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন স্তরের পদগুলো খালি থাকায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসন কার্যক্রমে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা যথাসাধ্য দ্রুততা দিয়ে নিরসন করতে চায় নতুন সরকার। মন্ত্রী আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিলে এলাকার উন্নয়ন ধীরগতি থেকে রেহাই পাবে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।

অন্যদিকে, দেশের আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তৈরি হওয়া নেতিবাচক অবস্থার গুজবকে তিনি অস্বীকার করেন। বলেন, বাস্তবতা এতটা খারাপ না; গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলার কিছু উন্নতি হয়েছে এবং অর্থনীতির সূচক স্বাভাবিক হওয়ার পথে। ব্যাংকিং খাতেও বেশ কিছু সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়।

আওয়ামী লীগ বা সরকারের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে জানান, এটি একটি নীতিগত বিষয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং পরে দেশের মানুষকে তা জানানো হবে।

প্রথম দিনেই মন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয় যেখানে তিনি সচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। শিক্ষা ও আইনমন্ত্রণালয়ের নেতাদের বক্তব্যের সূত্রে তিনি যোগ করেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে কোনো আপস করবে না। বিএনপির একজন একজন কর্মকর্তা হিসেবে এই দ্রুত সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতের প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য আশার বার্তা என দেখা হচ্ছে। সবমিলিয়ে তাঁর প্রথম দিনের ভাষণ থেকেই বোঝা যায় শাসনতন্ত্রের শৃঙ্খলা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ফিরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত।