এ বিজয় বাংলাদেশের, গণতন্ত্রকামী মানুষের: তারেক রহমান Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের পর দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, এটি সত্যিই বাংলাদেশের বিজয় এবং এটি গণতন্ত্রের জয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই বিজয় মূলত গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের বিজয়। আজ থেকে সবাই স্বাধীন। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবिक রাখতে হবে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা, প্রতিশোধ বা উসকানিমূলক কর্মকান্ডলে সহনশীলতা দেখানো হবে না। গতকাল শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তিনি, যেখানে বিবিধ দেশের সাংবাদিক, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের সূচনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তৃতা করেন, এবং সমাপনী বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, তবে তা যেন প্রতিশোধ বা বিদ্বেষে রূপ না পায়। তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলছি, কোনোরকম অরাজকতা বা বেআইনি কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না। দল, ধর্ম, বর্ণ বা বিভিন্ন মতের অজুহাতে দুর্বল মানুষের ওপর অন্যায় আক্রমণ দেখানোও রহিত করতে হবে। দেশের শান্তি বজায় রাখতে ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি, কারণ তা ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে কেউ যেন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল আইনি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, এবং অস্থির আইনশৃঙ্খলার যথাযথ মোকাবেলায় জাতির সামনে আসা বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর এই নির্বাচনে জনগণের সরাসরি ভোটে জনসমর্থন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, তার দলের চিন্তাভাবনা ও পথ ভিন্ন হতে পারে, তবে দেশের স্বার্থে সকলের একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার ও বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র আরও প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি নির্বাচন সম্পন্নের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, সেনা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সব ধরনের সংশয় ও সন্দেহ দূর করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি এখনো মানুষের মনোভাব ও সমর্থন গ্রহণ করতে সক্ষম। জনগণকে বিশ্বাস করেই তারা জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণকে বিশ্বাস করানোর জন্য আমরা জনগণের সঙ্গে মনোযোগে থাকব এবং এই বিজয়কে শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীলভাবে উদ্যাপন করব। একই সঙ্গে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, নির্বাচন শেষে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য সকল নেতা-কর্মী সতর্ক থাকুন ও শান্ত থাকুন। তারেক রহমান ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক দেশে পরিণত করার জন্য সকলের সহযোগিতা দাবি করেন। তিনি বলেন, জনগণের জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি হবে এবং একে মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে ভিন্নমত বা দল হিসেবে সমন্বয় প্রয়োজন। নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের সকলের আন্তরিকতা আবশ্যক। পরিশেষে তিনি বলেন, জনগণকে কনভিন্স করাটাই আসলে আমাদের সবচেয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ারিং, যা সফল অর্জন। তাদের স্বার্থ রক্ষায় পাশাপাশি ভবিষ্যতের পররাষ্ট্রনীতিতেও বাংলাদেশ তার দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া হবে। চীন, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক থাকবে—এমন নীতিতে এগিয়ে যেতে তিনি আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যেন একটি মানবিক ও নিরাপদ দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হয়, সেটার জন্য তিনি সবার সহযোগিতা ও একক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চান। SHARES রাজনীতি বিষয়: