২০০ মিলিয়ন ডলারে সব গানের স্বত্ব বিক্রি করলেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬

বিশ্বখ্যাত পপ সম্রাজ্ঞী ব্রিটনি স্পিয়ার্স তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সকল গানের স্বত্ব

বা মিউজিক ক্যাটালগ বিক্রি করে দিয়েছেন। বুধবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স এক

প্রতিবেদনে পপসংগীতের দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। সংগীত

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘প্রাইমারি ওয়েভ’-এর সঙ্গে এই বিশাল চুক্তি সম্পন্ন করেছেন

তিনি। বিনোদন জগতের প্রভাবশালী ওয়েবসাইট টিএমজেড প্রথম এই খবরটি সামনে আনে, যেখানে

বলা হয়েছে যে গত ৩০ ডিসেম্বর এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন ‘টক্সিক’

খ্যাত এই গায়িকা।

চুক্তির আর্থিক মূল্য সম্পর্কে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সংশ্লিষ্ট

সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, এর পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি

মুদ্রায় প্রায় ২৪৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এই চুক্তির ফলে ব্রিটনির কালজয়ী সব গানের

বাণিজ্যিক ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে প্রাইমারি ওয়েভের হাতে থাকবে। উল্লেখ্য যে,

এই প্রতিষ্ঠানটি ইতিপূর্বে হুইটনি হিউস্টন, প্রিন্স এবং স্টিভি নিক্সের মতো

বিশ্ববরেণ্য শিল্পীদের গানের স্বত্বও কিনে নিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত

ব্রিটনি স্পিয়ার্স বা প্রাইমারি ওয়েভ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য

পাওয়া যায়নি।

স্বত্ব বিক্রির এই তালিকায় রয়েছে ব্রিটনির ক্যারিয়ারের সেরা সব কালজয়ী সৃষ্টি। ১৯৯৮

সালে ‘বেবি ওয়ান মোর টাইম’ দিয়ে বিশ্বসংগীতে ঝড় তোলা এই গায়িকার জনপ্রিয় গানগুলোর

মধ্যে রয়েছে ‘উপস! আই ডিড ইট অ্যাগেইন’, ‘(ইউ ড্রাইভ মি) ক্রেজি’, ‘সারকাস’,

‘গিম্মি মোর’ এবং ‘আই অ্যাম অ্যা স্লেভ ফর ইউ’। ৪৪ বছর বয়সী এই শিল্পী গত কয়েক দশক

ধরে পপ জগতের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন এবং সর্বকালের অন্যতম সফল সংগীতশিল্পী হিসেবে

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ব্রিটনির এই বিশাল চুক্তির খবরটি এমন এক সময়ে এল যখন তিনি তার দীর্ঘ ১৩ বছরের

যন্ত্রণাদায়ক আইনি অভিভাবকত্ব বা ‘কনজারভেটরশিপ’ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নতুনভাবে

জীবন সাজাচ্ছেন। ২০০৮ সাল থেকে তার বাবা জেমি স্পিয়ার্সের অধীনে থাকার পর ২০২১

সালের নভেম্বরে তিনি পূর্ণ স্বাধীনতা পান। যদিও ২০১৬ সালে তার নবম ও সর্বশেষ

স্টুডিও অ্যালবাম ‘গ্লোরি’ প্রকাশিত হয়েছিল, তবে এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে তিনি তার

আর্থিক ও পেশাদার অবস্থানকে আরও সুসংহত করলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পপ জগতের

এই নজিরবিহীন চুক্তি ব্রিটনি স্পিয়ার্সের ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।