পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব দৃঢ় অবস্থানে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

সম্প্রতি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারি কার্যক্রমের কড়া সমালোচনা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দুই ডজনের বেশি রাষ্ট্রদূত, যাঁরা ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও স্পষ্ট করে দিয়েছчে নিজেদের বিরোধিতা।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপ বাস্তবিক অর্থে দখলকৃত পশ্চিম তীরে একতরফা সংযুক্তিকরণের মতো দেখানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের পরিপন্থি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বমানবতাবাদী সংগঠনগুলো। তারা উত্সাহিত করেছেন, দখলকৃত ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডের স্থিতাবস্থা রক্ষা ও দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার প্রয়োজন।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে বলেছেন, তিনি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনায় আপত্তি জানাচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে একমত নন এবং এই ধরনের পদক্ষেপে তিনি সমর্থন করেন না। ট্রাম্পের মতে, এই মুহূর্তে আরও নতুন সমস্যা সৃষ্টি না করাই উচিত।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসসহ অনেক দেশই ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে চিহ্নিত করেছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গেল রোববার পশ্চিম তীরে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের অনুমোদন দেয়, যার মধ্যে রয়েছে—ব্যক্তিগত ইসরায়েলিদের কাছে জমি বিক্রি নিষিদ্ধকারী আইন বাতিল, মালিকানার নথি প্রকাশ এবং হেবরনের কাছে একটি বসতি এলাকার নির্মাণ অনুমোদন।

তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ পশ্চিম তীরের জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে এবং শান্তি প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বলেছেন, সম্প্রীতির জন্য পশ্চিম তীরের অবস্থা অপরিহার্য। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করা, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের জেরে বেশ কিছু মুসলিম প্রধান দেশ—সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও জর্ডান—একযোগে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। তারা এই পদক্ষেপগুলোকে অবৈধ ও ফিলিস্তিনি জনগণের উচ্ছেদকর্ম বলে উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করে, এবং ইসরায়েলকে এ সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। স্পেন ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোও এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে, আশঙ্কা প্রকাশ করে যে এটি অরাজকতা ও সহিংসতা বৃদ্ধি করতে পারে।

এদিকে, গাজায় শান্তি বজায় রাখতে ইন্দোনেশিয়া দায়িত্বরত হিসেবে প্রায় ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শেষ হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাক জানিয়েছেন, সেনারা মূলত চিকিৎসা ও প্রকৌশল সহায়তা দেবে, সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গে জড়ানোর পরিকল্পনা নেই। এই সেনা মোতায়েন গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন এবং হামাসের অস্ত্রবিরতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।