গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ফুটবল ফিরল দুই বছর পর

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং অসাধারণ ধ্বংসযজ্ঞের পরে আবারও ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহ ঝরা শুরু হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায়। শনিবারের একটি বিশেষ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যা শহরের মানুষদের মধ্যে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। গাজার তাল আল-হাওয়া এলাকার একটি অস্থায়ী খেলার মাঠে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, যেখানে চারপাশে ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফুটবল খেলার প্রাণবন্ত দৃশ্য দেখার জন্য মানুষের উপস্থিতি ছিল অসাধারণ। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর পর এমন সংগঠিত ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকার মানুষরা যেন একটু স্বস্তি পেয়েছেন, কারণ এই খেলা তাদের মনে নতুন করে জীবনের শক্তি যোগায়। এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় বিভিন্ন স্থানীয় ক্লাবের পাঁচজনের দল। প্রথম ম্যাচে অংশ নেয় জাবালিয়া ইয়ুথ ও আল-সাদাকা ক্লাবের দল, যা সমানভাবে ড্র হয়। অন্যদিকে বেইত হানুন ও আল-শুজাইয়ার মধ্যকার ম্যাচও অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। তবে মূল উদ্দেশ্য ছিল জয়-পরাজয় নয়, বরং মাঠে প্রাণের খেলা ফিরে আসার আনন্দ উপভোগ করা। দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে। শিশুদের দ্বারা ধ্বংসস্তূপের উপর উঠে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে দেখা যায়, ড্রাম বাজিয়ে পাঠানো হয় উত্সাহ। এই দৃশ্য দীর্ঘদিনের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত জনপদে এক অপূর্ব অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছিল মিশ্র আবেগ। ২১ বছর বয়সী জাবালিয়া ইয়ুথের খেলোয়াড় ইউসুফ জেনদিয়া বলেন, যেখানে কেবল খাবার ও পানির খোঁজে লড়াই চলছে, সেখানে এই সামান্য সময়টুকু ফুটবল খেলায় আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন তারা। তবে এই আনন্দের সঙ্গেই আছে বিষাদ, কারণ তাঁদের অনেক সতীর্থ জীবন হারিয়েছেন বা গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বেইত হানুনের খেলোয়াড় আমজাদ আবু আওদা বলেন, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তারা বার্তা দিতে চান যে এত ধ্বংসের মধ্যেও বেঁচে আছে গাজা, জীবন তার নিজস্ব গতি ধরে চলবে। গাজার প্রাচীন ইয়র্মুক স্টেডিয়ামটি যুদ্ধের সময় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, পরে তা ইসরায়েলি বাহিনী আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়। বর্তমানে সেখানে অনেক শরণার্থী পরিবার তাঁবুতে বসবাস করছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাল আল-হাওয়া এলাকার ভাঙা দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে, পুরোনো কৃত্রিম ঘাস পরিষ্কার করে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে সক্ষম হয়। যদিও যুদ্ধবিরতির চার মাস অতিবাহিত হলেও বড় ধরনের পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়নি, তবুও ধ্বংসস্তূপের মাঝে এই আয়োজন গাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার এক অদম্য আলামত। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ অস্থায়ী কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে জীবন কাটাচ্ছেন, তবে এই ফুটবল প্রতিযোগিতা তাদের জন্য এক ক্ষণিকের মুক্তি এবং আনন্দের বার্তা।