টাকাকাণ্ডে জামায়াতের একাধিক নেতা আটক: ভোটের মাঠে দুর্নীতির ছায়া

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনগুলোতে বাংলাদেশে টাকা দিয়ে ভোট কেনার ঘটনা নতুন নয়. এর মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা এই কাণ্ডে প্রথম সারিতে ছিল। নির্বাচনের আগের দিনই বিভিন্ন প্রান্তে নগদ অর্থের সঙ্গে নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে, যা দেশের নির্বাচনী পরিবেশের জন্য গভীরite উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঢাকার সূত্রাপুরে ১১ ফেব্রুয়ারি এক চালের দোকানে টাকা দিয়ে ভোটের জন্য তৎপরতা চলছিল বলে জানা যায়। সাধারণ জনগণের সন্দেহজনক নজরে এলে স্থানীয় লোকজন ওই জামায়াত নেতাকে ধরে ফেলেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড দেন। এই ঘটনায় এলাকাবাসী নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে কড়া নজরদারির দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও গোপন ধারণা অনুযায়ী, নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আসছিলেন জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার ব্যাগ তল্লাশি চালায় এবং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার পরিবারের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। তিনি একজন শিক্ষক আর তার কাছে থাকা টাকার পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ৭৪ লাখ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থারা এই অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য তদন্ত করছে।

কুমিল্লার মুরাদনগরে ভোটের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান হেলালিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। তার বিরুদ্ধে জানানো হয়, তিনি প্রাইভেট কারে করে কয়েকজন ভোটাদেকে টাকা দিচ্ছিলেন। অভিযুক্তকে আটক করার সময় তার গাড়ি জব্দ করা হয় এবং পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জামায়াতের এক নেতাকে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালাতে দেখা গেছে। ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তার টাকা দেওয়ার দৃশ্য সবার নজরে এসেছে। ওই নেতা দৌড়ে পালানোর সময় স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় বিএনপি সমর্থক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, বিভিন্ন জায়গায় তারা ভোটের টাকা দিয়ে দুর্বৃত্তায়ন চালিয়ে যাচ্ছে।

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জামায়াতের একজন নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, ল্যাপটপ, খালি খাম ও দলীয় কার্যক্রমের কাগজপত্র উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। পরে তাকে যেখানে আটক করা হয়, সেখানে স্থানীয় জামায়াতের আরও নেতাদেরও আটক করা হয়। তবে কিছুক্ষণ পরে তাদের ছাড়া দেওয়া হয়।

বগুড়া নন্দীগ্রামেও ভোটের টাকা দিয়ে ভোটের প্রচেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। ঘটনা অনুসারে, জামায়াতের কর্মীরা বিএনপি নেতাদের বাড়িতে গিয়ে টাকা বিতরণ করছিলেন, ফলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন আহত হন।

এসব ঘটনা দেশের নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিভিন্ন স্থানে ভোটের জন্য টাকা দেওয়ার এমন ঘটনা যেন একটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপকৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাগুলোর ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।