নির্বাচনের প্রথম দিকেই এগিয়ে ২০ হাজারের বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র এখনও জমা দেয়া হয়নি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। যদিও সেই সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে, এখনো দেশে ২০ হাজারের বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র অবৈধভাবে হাতে রয়ে গেছে। অনেক ব্যক্তির কাছে থাকা এসব অস্ত্রের লাইসেন্স হয়তো ছিল বিগত সরকার আমলের, আবার অনেকের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা চলমান বা তারা রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। কিছু অস্ত্রের মালিক ইতিমধ্যে দেশে থাকছেন না, তারা বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। এসব পরিস্থিতি প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তাবিষ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো যদি উদ্ধার না হয়, তাহলে নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে নাশকতার ঝুঁকি বাড়বে।

সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এখনো জমা হয়নি প্রায় ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্রের লাইসেন্স। এর আগে, ২০১৮ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতুনভাবে সব অস্ত্রের তালিকা করার সময়, সারা দেশে মোট ৪৮,২৮৩টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রের অস্তিত্ব ছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৭,৯৯৫টি অস্ত্র সরকারি কোষাগারে বা সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অবশিষ্ট থাকছে আরও বিশালসংখ্যক অস্ত্র, যা পুরোপুরি ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে নির্বাচনি পরিস্থিতি।

আন্তঃসাংবাদিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার ও অবৈধ প্রবেশের সম্ভাবনা থাকায় আরও সতর্ক থাকতে হবে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহাউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রতিটি অবৈধ বা অপ্রচলিত অস্ত্রই নির্বাচনে একটি বড় ঝুঁকি বা ‘থ্রেট’। তিনি আরও বলেন, দেশীয় ও বৈদেশিক উপায়ে প্রবেশ করা অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা নির্বাচনের সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত থাকবে। তারা সতর্ক করেছেন, যারা এখনও অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখছেন অথবা লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও জমা দিচ্ছেন না, সেইসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন সব বাধা অতিক্রম করে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।