বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপুল ধারা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দক্ষ তারল্য ব্যবস্থাপনার কারণে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি এবং প্রবাসী আয়ের সমন্বয়ে গত কয়েক মাস ধরে রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকায় অর্থনীতির ওপর আশার আলো দেখা গেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনের শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে গণনার ফলাফলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ বৃদ্ধির বিষয়টি বিশদে ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনের শেষে রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পৌঁছেছে।” উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে তা ছিল ২৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত। রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা ধারাবাহিকভাবে তিন বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মাত্র সাত দিনেই প্রবাসীদের থেকে প্রায় ৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ২১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। বৈদ্যুতিন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রামিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে রফতানি বাণিজ্য ও হুন্ডি প্রতিরোধে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলোকে দায়ী করছে বিশ্লেষকরা। একসময়ে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও নানা আর্থিক চ্যালেঞ্জের কারণে সেটি একসময় নিম্নমুখী হয়ে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তবে এখন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায়, যা বর্তমানে প্রায় ১২২ টাকার কাছাকাছি, আমদানিতে বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজারে কোনো ডলার সংকট দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়ে সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো এই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ বিশ্লেষকরা মনে করেন, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ এবং রফতানি বৃদ্ধির পোর্শে ভবিষ্যতে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করছেন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: