ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বে গভীর বিভাজন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চাপ বাড়ছে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

ইসরায়েলের সাবেক মন্ত্রী ও সামরিক কমান্ডারদের সমালোচনার মুখে দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে চলমান গাজা মোকাবিলার সিদ্ধান্ত এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের অপসংবাদ বা ব্যর্থতার জন্য তার বিরুদ্ধে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনার ধারা আরও ঘনীভূত হয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজন আরও গভীর করেছে।

গাজার ওপর ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার দুই বছর পার হয়ে গেলেও, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে তার সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাবেক যুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা এবং সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডাররা সম্প্রতি তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, তিনি সত্যের পরিবর্তে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু গাজা অভিযান নিয়ে গোপন নথির অপব্যবহার করেছেন এবং সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগের স্বচ্ছতা লোপ করেছেন।

ইসরায়েলের সাবেক যুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী ইওয়াভ গালান্ত উল্লেখ করেছেন, তিনি স্পষ্টত বলছেন, ৭ অক্টোবরের হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহুর দেওয়া বিভ্রান্তিকর তথ্যই মূলত দেশের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হামলার পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভুল তথ্য প্রদান করেছেন, বরং সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সত্য কিছুও গোপন করেছেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দলের নেতা ইয়ার ল্যাপিড অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী ৫৫ পৃষ্ঠার গোয়েন্দা রিপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ না করে, উল্টো তথ্য ভোঁতা করে ফেলার চেষ্টায় লিপ্ত। তিনি জানান, হামলার আগের দিন থেকেই ঐসব সতর্কতা ছিল, তবে নেতানিয়াহু সেগুলোকে অস্বীকার করেছেন, যা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তদন্তের ব্যাপারে নতুন তদন্ত কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট বলেন, তিনি অপ্রমাণিত ও বিভ্রান্তিকর দাবি গ্রহণ করেন না এবং তদন্তের প্রাক্তন কার্যবিবরণীর সম্পূর্ণ প্রকাশের দাবি জানান। এর ফলে, দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ নেতাদের আস্থা ও স্বচ্ছতার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।