জাপানে জাতীয় নির্বাচনের আগাম ভোটগ্রহণ শুরু Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ জাপানে দেশজুড়ে জাতীয় নির্বাচনের প্রাকৃতিক গণনা শুরু হয়ে গেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা দেখা যাচ্ছে। প্রায় কয়েক মাস আগে, প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি এর সিদ্ধান্তে তিনি ঘোষণা দেন যে, দেশে জাতীয় ভোটের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশটির সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়, আর সেই সঙ্গে নতুন করে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি দ্রুত জনসমর্থন লাভের আশায় ছিলেন। অংশগ্রহণের জন্য এই নির্বাচনে, সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের জন্য মোট ১,২৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পূর্বপ্রচারে দেখা গেছে, আজকের প্রথম দিনেই প্রায় ৪৬ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। জরিপ বলছে, এই নির্বাচনে প্রধান প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তার জোট জাপানিজ ইনোভেশন পার্টি। তারা আশা করছে, তারা ৪৬৫ আসনের মধ্যে প্রায় ৩০০টি আসনে জয় লাভ করতে পারে, যা সরকার গঠন করতে বেশ সহায়ক। অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে, বিশেষ করে পুরনো জোটের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায়, এই নির্বাচন যেন এলডিপির নতুন এক বৃদ্ধির সুযোগ হয়ে উঠছে। এর ফলে, এলডিপির নেতা ও সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি নতুন করে জনপ্রিয়তা অর্জন করার চেষ্টা করছেন, নিজেকে ভোটারদের কাছে একজন বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে। তিনি করছাড় ও ভর্তুকির ঘোষণা দিয়ে ভোটের ভাষণে মাতাচ্ছেন। তবে, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এখনও অব্যাহত, কারণ দেশের সরকারি ঋণ এতটাই বেশি যে, অতিরিক্ত ব্যয়ের পক্ষে নানা সমালোচনা তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই হয়তো ওই নির্বাচনকে ফলপ্রসূ করে তুলবে। অন্যদিকে, তুষারপাতের কারণে ভোটার উপস্থিতিতে অস্বস্তি দেখা দেয়ার আশংকা রয়েছে, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে। ভোটগ্রহণের সময় শেষ হতে এখনও বেশ রাত কাটে, ফলে ফলাফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের পর এই প্রথমবারের মত জাপানে শীতকালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তুষারপাতের কারণে যারা ভোট দিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে। সাগরের উপকূলীয় এলাকা নিয়গাতাসহ বেশ কিছু অঞ্চলে রোববার ভারী তুষারপাতের কারণে ট্রেন, ফেরি ও ফ্লাইটের রুট বন্ধ বা বাতিলের ঘটনা ঘটে, যা ভোটার উপস্থিতি কমানোর আশংকা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অবশেষে, নির্বাচন শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো। আশাকরি, এই ভোটের ফল দেশের রাজনৈতিক স্থিরতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: