চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর থাইল্যান্ড উপকূলে জাহাজ ডুবি, ২৯৭ কনটেইনারসহ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

মালয়েশিয়া থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার载ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পথে একটি بحرজনক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ থাইল্যান্ডের উপকূলে ডুবে গেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ফুকেট উপকূলে গভীর সমুদ্রে এই ঘটনা ঘটে। এই ১১৫ মিটার লম্বা জাহাজটির মধ্যে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের বিপুল সংখ্যক বাণিজ্যিক পণ্য ছিল, যা এখন গভীর সমুদ্রে তলিয়ে গেছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিককে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটি ৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দরে থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুই দিনের শক্তিশালী সমুদ্রে চলার পর, ফুকেট উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক গোলযোগ বা ভারসাম্যহীনতার কারণে জাহাজটি একদিকে কাত হয়ে যায়। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় ক্যাপ্টেন সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। কিছুক্ষণ পরে পণ্যসহ জাহাজটি সাগরে তলিয়ে যায়। এই জাহাজে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মোট ২৯৭টি কনটেইনার পণ্য ছিল, যা বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই আশেপাশে থাকা একটি মাছ ধরার নৌকা ও থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৬ জন নাবিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, যারা বর্তমানে ফুকেটের একটি হোটেলে চিকিৎসাব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছেন। বাংলাদেশীয় এজেন্ট আলভি লাইন্স জানিয়েছেন, গভীর সমুদ্রে অপ্রত্যাশিত কাত হওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জাহাজ ডুবির এই ঘটনায় বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ব্যাপক উদ্বেগে পড়েছেন। ২৯৭টি কনটেইনারে থাকা পণ্যগুলোর বীমা ও আইনি দিক নির্দেশনা নিয়ে এখন কাজ চলছে। সমুদ্রপথে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক শিপিং নিয়মাবলী ও কারিগরি মানদণ্ড জোরদার করার ব্যাপারে আলোচনা অব্যাহত। এছাড়াও, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের দেশে ফেরানো, ডুবো জাহাজ ও পণ্য পুনরুদ্ধারসহ নানা দিকেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাইল্যান্ডের উদ্ধারকারী দল ও বিমা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সব দিক পর্যবেক্ষণ ও সমাধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।