কম্বল দিয়ে ভোট চাইতে গিয়ে জামায়াতের ৫ নেতা আটক, অর্থদণ্ড Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাগুরায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন নেতাকর্মীকে আটক ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মাগুরা-২ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহর (এমবি বাকের) পক্ষে গভীর রাতে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে রোগীদের মাঝে কম্বল বিতরণ ও ভোট প্রার্থনা করার সময় তাঁদের আটক করা হয়। শুক্রবার সকালে মাগুরার ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটির বিচারক আইয়বুর রহমান সিয়াম এক সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলেও জব্দকৃত ৩২টি কম্বল স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হুসাইন আহম্মেদ কাবুল ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মুকুলের নেতৃত্বে একদল কর্মী কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লায়’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানাতে থাকেন। এক পর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বালিদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আলী আকবার মোল্যাকেও তাঁরা কম্বল দিয়ে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যার ফলে হাসপাতালের শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। খবর পেয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. শাহানুর জামান এবং মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রাথমিক তদন্তে নির্বাচনী আইন ভঙ্গের প্রমাণ মেলায় ইউএনও’র নির্দেশে পুলিশ ৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং তাঁদের সাথে থাকা ৩২টি কম্বল ও প্রচারপত্র জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভোটারদের প্রলুব্ধ করার লক্ষ্যে এই ধরণের বিতরণ কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট আচরণবিধির পরিপন্থি। এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহা. শাহনুর জামান গণমাধ্যমকে জানান, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটির বিচারক আইয়বুর রহমান সিয়াম অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে আর্থিক জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যদি আইন অমান্য করে ভোটারদের উপহার সামগ্রী প্রদান বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের এই নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। বর্তমানে এলাকায় নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে স্থানীয় প্রশাসন। SHARES বাংলাদেশ বিষয়: