বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না: তারেক রহমান Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনো পর্যন্ত বিএনপি তাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ সরকারকে সরিয়ে দেশে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনার মাধ্যমে দলের নেতা জিয়াউর রহমান দেশকে একটি শক্ত ভিত্তি প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়াও সেই পথে এগিয়ে গেছেন। তিনি আরও জানান, যদি সরকার গঠনে তারা সুযোগ পান, বিএনপি দুর্নীতির কোনও আপস করবে না। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের সময় মূল এই বক্তব্য রাখেন তিনি। তারেক রহমান আরো বলেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে ইতিমধ্যে জাতির সামনে একটি প্রস্তাব তুলে ধরেছিলাম। এই প্রস্তাবটি হচ্ছে— যেন প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন, তার মেয়াদ বেশি করে ১০ বছর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে এই প্রস্তাবটি প্রথমে বিএনপি দিয়েছিল এবং এটি নথিবদ্ধ। এই কৃতিত্ব যথাযথভাবেই আমরা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ২০০১ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের অপব্যবহারকারীর দুর্নীতির ভার নেওয়ার পর থেকে বিএনপি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়। খালেদা জিয়ার সরকার 당시 দুর্নীতি দমনে এক স্বাধীন ও হস্তক্ষেপমুক্ত দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হয়। এর ফলে প্রথম বছরে বাংলাদেশে দুর্নীতির সূচক উন্নতি শুরু করে, ২০০২ সালে এটি ০.৪ থেকে বাড়ে ১.২। পরের বছর ২০০৩ সালে ১.৩, ২০০৪ সালে ১.৪, ২০০৫ সালে ১.৫ এবং ২০০৬ সালে ২.০ এ উন্নীত হয়। এর মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে দুর্নীতি কমে আসে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে একদিকে পতিত সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে দুর্নীতির মাধ্যমে নানা অপকর্ম চালাচ্ছে, অন্যদিকে ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়ে যদি বিএনপি সরকারে আসে, তবে দুর্নীতি ও আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণই প্রথম অগ্রাধিকার হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি কখনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না। তারেক রহমান আরও জানান, সরকার গঠন করলে দেশের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার ব্যবস্থা চালু করবেন। এছাড়া, সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে তারা গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চলছিল বলে জানান। বিশেষ করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে তারা বলেছে, এটি ধীরে ধীরে ক্ষতিপূরণ করবে যাতে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসা যায়। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হলে ভোটাধিকার ও ভোটের স্বচ্ছতা অব্যাহত রাখতে হবে। এবং সেই ভোট ব্যবস্থা যেন নিরপেক্ষ হয়, যার ওপর দেশের মানুষ সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন অনুযায়ী নিরপেক্ষতার জন্য অরাজনৈতিক সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারই একমাত্র উপযুক্ত। এজন্য বিএনপি ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছিল, তারা পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে চায়। ভবিষ্যতেও এই বিষয়টিকে তারা গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বহাল করবে। তিনি বলেন, এটাই প্রথম দল হিসেবে আমরা বলেছি, স্বৈরশাসনের সময় আড়াই বছর আগে নিজেদের ৩১ দফায় এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে বলেছিলাম— যদি ক্ষমতা পায় তাহলে আমাদের এই ব্যবস্থা পুনর্বাসন করবে। প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তব্য শেষে আবারও দুর্নীতি ও সুশাসন নিয়ে আলোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশে যদি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি জয় লাভ করে ও সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে তাদের একমাত্র অগ্রাধিকার থাকবে দুর্নীতি রোধ, আইনের শাসন ও জনঘনিষ্ঠ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তার দাবি, এগুলো যাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়, এই বিষয়গুলোই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। SHARES রাজনীতি বিষয়: