মেঘালয়ে কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৬ শ্রমিকের মৃত্যু

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তী হিলসের তাসখাই এলাকায় বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) এক ভয়াবহ অবৈধ কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, আরও অনেক শ্রমিক এখনো খনির ভেতরে আটকা পড়ে রয়েছেন। এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর দ্রুত উদ্ধারকার্য শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে, বিস্ফোরণের পরপরই খনির মুখ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে, এবং বাইরে থাকা শ্রমিকদের পরিবার ও স্বজনরা তীব্র আতঙ্ক ও কান্নাকাটি শুরু করেন। জানা গেছে, নিহত শ্রমিকের বেশিরভাগই প্রতিবেশী রাজ্য আসামের বাসিন্দা। উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই খনির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। নিহতদের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেঘালয় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি এখন খুবই বিপজ্জনক। ভেতরে কী বিষাক্ত গ্যাস জমে রয়েছে না বা কি নতুন করে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা রয়েছে—এসব বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। দুর্ঘটনার মূল কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে যে, ভয়ানক কোনও দাহ্য গ্যাসের জমা বা অবৈধ বিস্ফোরক ব্যবহারের ফলে এই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। এই অঞ্চলে অবৈধ খননকার্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার শঙ্কা ছিল, সুবাদে এই ঘটনা তারই চরম বাস্তবতা তুলে ধরেছে। উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরেও এই জেলায় একটি অবৈধ খনিতে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল, যার জন্য মেঘালয় মানবাধিকার কমিশন এবং হাইকোর্ট কর্তৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এছাড়া, এই বছরের জানুয়ারিতে একই পাহাড়ের উমথে গ্রামে অবৈধ খনিতে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় সিল করে তদন্ত চালাচ্ছে। একের পর এক এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও অবৈধ খননকার্য বন্ধ না হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ ঘটনা আবারও নির্দেশ করে দেয়, এই অবৈধ কয়লাখনির কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় এই অঞ্চলের জীবননিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।