ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কুশাখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এই চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে নির্বাচন এলাকায় নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশდება।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মদ মমতাজ বেগম জানান, ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে স্কুল বন্ধ করে চলে যান। এরপর তিন দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফিরে দেখেন, নিচতলায় থাকা তিনটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে দুটিই অদৃশ্য হয়ে গেছে। দুর্বৃত্তরা চেকসুইস কৌশলে এই ক্যামেরাগুলো খুলে নিয়ে গেছে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং ওই দিনই সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান হাসিব এই চুরির ঘটনা পরিকল্পিত নাশকতার অংশ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলছেন, যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে বা কারচুপি করতে চায়, তারা সম্ভবত এই ধরনের চুরি চালিয়েছে। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত জরুরি। যারা নির্বাচনের পরিবেশ কাটতে চায়, তারা হয়তোই এই ক্যামেরাগুলো অপসারণের সাথে যুক্ত।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্মীপুর জেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, এই চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য প্রশাসন নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। ভোটারদের আস্থায় ফেরাতে এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মূলত নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় একটি রহস্য সৃষ্টি হয়েছে এবং উত্তেজনা বাড়ছে।