টেকসই অর্থনীতি নিশ্চিতে সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

বাংলাদেশে সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ এবং একটি শক্তিশালী টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে

ব্যবসায়ীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা

সুপ্রতিষ্ঠিত করা আবশ্যক বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা

পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে দি

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত ‘বিজনেস ক্লাইমেট ইন

বাংলাদেশ : ইস্যু অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ অব ইথিক্যাল প্রাক্টিস’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায়

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের

উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর মাধ্যমে

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিচালন ব্যয় হ্রাস, সরকারি এজেন্সিসমূহের সেবার মান ও কাজের গতি

বৃদ্ধি করতে হবে। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত

এই সভায় ড. মোয়াজ্জেম ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স প্রাপ্তি, নবায়ন, নিবন্ধন এবং কাস্টমসসহ

বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাগুলোর একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম সরকারি

দপ্তরের পদ্ধতিগত কিছু জটিলতার কথা স্বীকার করে বলেন যে, সেগুলো সহজীকরণের সুযোগ

রয়েছে। এ সময় সেবা পেতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার

বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত

বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং

সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করার পাশাপাশি

নীতি কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। ব্যবসায়ী নেতারা এ সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা

নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং সিঙ্গল উইন্ডো বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর

দেন। আইবিএফবির পরিচালক এম এস সিদ্দিকী এ সময় অভিযোগ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার

কর্তৃক গৃহীত আইন ব্যবসা সহজীকরণ নীতির বিপরীতে যায় যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম জানান যে, প্রাতিষ্ঠানিক

সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে তবে এখন সবার

মধ্যে আচরণগত সংস্কার খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। আইবিএফবির সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া

খান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আইবিএফবি বিশ্বাস করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি,

টেকসই উন্নয়ন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৈতিক ব্যবসায়িক

চর্চা অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, তা কেবল আইন দিয়ে

সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ এবং

অংশীদারিত্বমূলক দায়বদ্ধতা।’ সভার সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর

রহিম খান আশ্বাস প্রদান করেন যে, বেসরকারি খাতের উত্থাপিত পরামর্শগুলো সরকারের কাছে

তুলে ধরা হবে। একই সাথে তিনি ব্যবসায় ন্যায্য মুনাফা করার পাশাপাশি সমাজিক, নৈতিক ও

মানবিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক অবদান রাখতে

উদ্যোক্তাদের প্রতি দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ মেনে চলার আহ্বান জানান। সভায়

এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স উইংয়ের প্রধান মো.

জাফর ইকবালসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।