মেঘালয়ে কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৬ শ্রমিকের প্রাণহানি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তী হিলসের তাসখাই অঞ্চলে

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) একটি অবৈধ কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই

আকস্মিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে

এবং খনির অভ্যন্তরে আরও অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই খনিটিতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই স্থানীয় পুলিশ,

দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে, বিস্ফোরণের পরপরই খনির মুখ দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া

বেরোতে শুরু করে এবং বাইরে থাকা শ্রমিকদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র আর্তনাদ ও

আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত শ্রমিকদের অধিকাংশই প্রতিবেশী রাজ্য আসামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্থানীয়

পুলিশ প্রশাসন। উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে খনির ভেতরে

প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা

হচ্ছে। উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেঘালয়

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে

জানিয়েছেন যে, খনির ভেতরের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেখানে কোনো

বিষাক্ত গ্যাস জমে আছে কি না কিংবা নতুন করে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা রয়েছে কি না,

উদ্ধারকারী দলগুলো তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখছে।

দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও ধারণা করা

হচ্ছে যে, খনির ভেতরে দাহ্য গ্যাস জমে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটতে পারে অথবা অবৈধভাবে

বিস্ফোরক ব্যবহারের জেরেও এই বিপর্যয় সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলে অবৈধ

খননকার্য ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে শঙ্কা ছিল, এই ঘটনা তাকে আরও প্রকট করে

তুলেছে। উল্লেখ্য যে, গত বছরের ডিসেম্বরে একই জেলায় একটি অবৈধ খনিতে বিস্ফোরণে দুই

শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে মেঘালয় মানবাধিকার কমিশন ও হাইকোর্ট কর্তৃক

নিযুক্ত একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি তদন্ত পরিচালনা করেছিল। এমনকি চলতি বছরের

জানুয়ারিতেও একই পাহাড়ের উমথে গ্রামে অনুরূপ একটি অবৈধ খনিতে পড়ে এক শ্রমিকের

মৃত্যু হয়, যার ফলে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকাটি সিল করে তদন্ত শুরু করেছিল।

একের পর এক এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরেও অবৈধ খননকার্য বন্ধ না হওয়ায় এই অঞ্চলের

জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।