প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার  মারা গেছেন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর প্রয়াণ ঘটে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ১৯৫৯ সালের ১৫

জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী

শৈশব থেকেই সুরের মায়াজালে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। মাত্র সাত বছর বয়স থেকে শুরু

হওয়া তাঁর এই সংগীতযাত্রা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর ভাবশিষ্য সুনীল কর্মকার কেবল ভরাট কণ্ঠের জাদুই ছড়াননি,

বরং বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামের মতো বাদ্যযন্ত্রেও ছিলেন সমান পারদর্শী।

আধ্যাত্মিক সাধক জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুরারোপ ও কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি

তিনি নিজে প্রায় দুই শতাধিক গান রচনা করেছেন। তাঁর গাওয়া ‘মানুষ ধরো, মানুষ ভোজ’

গানটি শ্রোতাকুলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সংগীতই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র

ধ্যান ও জ্ঞান, যার মাধ্যমে তিনি জীবনদর্শন এবং স্রষ্টার প্রতি ভক্তির বাণী প্রচার

করে গেছেন।

এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ

সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “উনি দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে

মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন যে, সুনীল

কর্মকারের মৃত্যুতে দেশ একজন খাঁটি বাউল এবং লোকজ সংস্কৃতির নিবেদিতপ্রাণ সাধককে

হারাল। একইভাবে কেন্দুয়া জালাল পরিষদের সদস্য আয়েশ উদ্দিন ভূঁইয়া শোকস্তব্ধ কণ্ঠে

বলেন, “বাউল সুনীল কর্মকার জালাল ভাবশিষ্য এবং কালজয়ী বাউল শিল্পী ছিলেন। তার

শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।” মাটির সুরের এই কিংবদন্তি শিল্পীর বিদায়ে নেত্রকোনাসহ

দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।