আমরা অর্থনীতিকে একটি সন্তোষজনক অবস্থায় রেখে যাচ্ছি: ড. সালেহউদ্দিন Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:০৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ দেশের অর্থনীতিকে একটি সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল অবস্থায় রেখে অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য পথ প্রশস্ত করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় এমন এক অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে যেখানে পরবর্তী নেতৃত্বকে কোনো বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হবে না। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন। অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আমরা অর্থনীতিকে একটি সন্তোষজনক অবস্থায় রেখে যাচ্ছি। পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হবে না। পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, আগের মতো নড়বড়ে নয়।” তবে এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ভবিষ্যতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। সরকারের ঋণ গ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা তথ্য দেন যে, ঋণ বাড়লেও সমান্তরালভাবে বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, ঋণগ্রহণ বেড়েছে, তবে আমরা প্রায় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণও পরিশোধ করেছি। ঋণ পরিশোধও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।” এছাড়া বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্প বা টানেলের মতো ব্যয়বহুল অবকাঠামো নির্মাণ থেকে বিরত থাকায় সরকারি ঋণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা কঠিন ছিল। সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তিনি বলেন, “সংস্কার শুধু বক্তৃতার বিষয় নয়। এর জন্য প্রক্রিয়া, সহযোগিতা এবং ধৈর্য প্রয়োজন। সিস্টেমের ভেতরে প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত জটিল। সহযোগিতা ছাড়া এটি খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।” তবে ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশনের মতো জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার ও আর্থিক বিরোধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি সংস্থা ইকসিড-এ (ICSID) আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথা জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “তারা বিশ্বব্যাংকের ফোরামে সালিশে গেছে। আমরা নোটিস পেয়েছি এবং এর জবাব দিতে হবে। এটি বিপুল অর্থের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়।” এই মামলা পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং সরকারি প্রতিনিধি দলের ওয়াশিংটন সফরের সিদ্ধান্তের কথাও তিনি নিশ্চিত করেন। বিদ্যুৎ খাতের শুল্ক সমন্বয় ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্কারগুলো সবসময় দৃশ্যমান প্রকল্পের মতো চোখে পড়ে না। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন, “মানুষ বলে কিছুই করা হয়নি। কারণ, তারা শুধু দৃশ্যমান প্রকল্প খোঁজে। কিন্তু অনেক মৌলিক প্রক্রিয়াগত সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। কেউ যদি দেখতে না চায়, তাহলে তো তারা দেখবে না।” মূলত পদ্ধতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: