যে ডকুমেন্টারি সিরিজে উঠে এসেছে এপস্টেইনের অন্ধকার অধ্যায় Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে কেন্দ্র করে নতুন করে লাখ লাখ গোপন নথি প্রকাশ করেছে। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে আবারও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এপস্টেইনের জীবনের অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে নির্মিত নেটফ্লিক্সের আলোচিত ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘জেফরি এপস্টেইন: ফিলথি রিচ’-কে। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া এই চার পর্বের ক্রাইম ডকুমেন্টারিটি মূলত একজন মানুষের বিপুল সম্পদ এবং উচ্চপর্যায়ের প্রভাবকে ব্যবহার করে গড়ে তোলা এক ভয়াবহ অপরাধের সাম্রাজ্যের গল্প বলে। নতুন করে নথিপত্র জনসমক্ষে আসার পর এই সিরিজটি এখন কেবল বিনোদন নয়, বরং অপরাধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে দর্শকদের কাছে নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মার্কিন এই ধনকুবেরের জীবনের সেইসব দিক, যা দীর্ঘ সময় ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। ক্ষমতা ও অর্থকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এপস্টেইন কীভাবে বছরের পর বছর ধরে অল্পবয়সী মেয়েদের শোষণ করেছেন এবং একটি আন্তর্জাতিক যৌন পাচার চক্র গড়ে তুলেছিলেন, সেটিই এই সিরিজের মূল উপজীব্য। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অপরাধযজ্ঞ কীভাবে আইন ও প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে বছরের পর বছর টিকে ছিল, সেইসব কঠিন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন পরিচালক লিসা ব্রায়ান্ট। জেমস প্যাটারসন ও জন কনোলির লেখা বই অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজটি ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে। এই ডকুমেন্টারি সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এপস্টেইনের অমানবিক নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের সরাসরি জবানবন্দি। সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী নারীরা সাহসের সঙ্গে তাঁদের জীবনের সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতাগুলো বর্ণনা করেছেন। কীভাবে তাঁদের কৌশলে ফাঁদে ফেলা হতো এবং পরবর্তীতে ক্ষমতার দাপট ও ভয়ের মাধ্যমে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হতো, সেইসব লোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে তাঁদের বক্তব্যে। একই সঙ্গে সিরিজটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এপস্টেইনের এই নেটওয়ার্ক কেবল তাঁর একার ছিল না, বরং বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিও পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফরি এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর যখন সিরিজটি মুক্তি পায়, তখনই এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এপস্টেইনের প্রভাবশালী মহলের যোগাযোগ। ‘জেফরি এপস্টেইন: ফিলথি রিচ’ কেবল একটি অপরাধীর জীবনকাহিনী নয়, বরং এটি সমকালীন বিশ্বের বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ক্ষমতাবানদের হাতে সাধারণ মানুষের শোষিত হওয়ার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। বর্তমানে বিচার বিভাগের নতুন নথি প্রকাশের প্রেক্ষাপটে এই ডকুমেন্টারি সিরিজটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারহীনতার অন্ধকার দিক উন্মোচনে আবারও এক অপরিহার্য দলিল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। SHARES বিনোদন বিষয়: