ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ‘অধার্মিক’ ম্যাগাজিনের ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১২:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৫

ইসলাম ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে কেন্দ্র করে কথিত “অশালীন ও ব্যঙ্গাত্মক” বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে অনলাইন ম্যাগাজিন ‘অধার্মিক’-এর সম্পাদক ও ১১ জন সহযোগী লেখকের বিরুদ্ধে রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার হেফাজতে ইসলামের কর্মী জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৯৫ ও ২৯৫(ক) ধারায় এই মামলা (নম্বর ৮৭৫/২৫) দায়ের করেন।

মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারা হলেনঃ ম্যাগাজিনের সম্পাদক এমডি সাইফুর রহমান, ইশতিয়াক আহমেদ, জেসিকা রাখি গোমেজ, নিলুফার হক, আরিফুল ইসলাম, দৃষ্টি দে, ভেরোনিকা গোমেজ, জয় বিশ্বাস, নাফিউর রেজওয়ান, নীলা ইসরাফিল, সুব্রত শুভ এবং সোহান কবির সানি।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই ম্যাগাজিন ইসলাম ধর্ম, মহানবী (সা.) এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে ব্যঙ্গ করে বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করে আসছে, যা দেশে নাস্তিক্যবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে তীব্র আঘাত দিচ্ছে।

মামলার বাদী জিল্লুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এরা আমাদের দেশ ও ইসলামের শত্রু। এই ধর্মবিরোধীরা সুসংগঠিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিও করেছি। কিন্তু সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমি আইনি পথ অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছি।”

বাদীর সহকর্মী দিদারুল আলম বলেন, “এসব নাস্তিক লেখক সমাজের জন্য হুমকি। এদের কারণে দেশে নানা ধরনের সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। আমি মনে করি, তারা পরিকল্পিতভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ধর্মপ্রাণ মানুষদের পথভ্রষ্ট করে নাস্তিক্যবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, বাংলাদেশে ৯২ ভাগ মুসলমান বাস করেন। এই পবিত্র ভূখণ্ডে নাস্তিকদের জায়গা নেই।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধার্মিক ম্যাগাজিনটির বিরুদ্ধে অতীতেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছিল। হেফাজতে ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এই ম্যাগাজিনসহ নাস্তিক্যবাদ প্রচারকারী সকল মাধ্যম বন্ধের দাবিতে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে আসছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৯৫ ও ২৯৫(ক) ধারা অনুযায়ী কোনো ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আদালত শীঘ্রই এই মামলার শুনানির তারিখ ঠিক করবে বলে আশা করা হচ্ছে।