কুৎসা রটিয়ে ও ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না: মির্জা আব্বাস

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন

তুঙ্গে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

গত রোববার রাজধানীর খিলগাঁও বাজার এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ পরিচালনা করেন। প্রচারণা

চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ মহল

পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটিয়ে ও জনগণকে বিভ্রান্ত করে নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে।

তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অপপ্রচার বা ধাপ্পা দিয়ে জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট পাওয়া

কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিছু রাজনৈতিক দল আগেভাগেই নিজেদের জয় নিশ্চিত ধরে নিয়ে

আস্ফালন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনবিচ্ছিন্ন এই দলগুলো আসলে কোথা থেকে

এমন শক্তি পাচ্ছে তা দেশবাসী জানতে চায়।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, বর্তমান

পরিস্থিতি কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূলে নেই। নির্বাচনী আচরণবিধিতে

স্পষ্টভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য

প্রদান নিষিদ্ধ থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ

করেন, তাঁকে এককভাবে টার্গেট করে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এই

বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না

নেওয়ায় তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, কমিশন একচোখা নীতি

অবলম্বন করে হাত গুটিয়ে বসে আছে, যা একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড়

অন্তরায়।

নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন এই জ্যেষ্ঠ

বিএনপি নেতা। তিনি দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসনের মোট ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায়

অর্ধেক ভোটারের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিপুল সংখ্যক

‘অদৃশ্য’ ভোটার কারা—তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যদি এসব ভোটারদের

অবস্থান নিশ্চিত করা না যায়, তবে স্বচ্ছ ফলাফলের স্বার্থে অবিলম্বে এই তালিকা থেকে

তাদের নাম বাদ দিতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করলে

কখনোই প্রকৃত জনরায়ের প্রতিফলন ঘটবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার

বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, কর্মজীবী নারীদের

সম্পর্কে যে ধরণের কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা মন্তব্য করা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং

অগ্রহণযোগ্য। ইসলাম ধর্মে কোথাও নারীদের কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়নি, বরং

তাঁদের যথাযথ মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ধরণের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারার

রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নজর রাখতে তিনি সচেতন নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বিএনপি সরকারের

সহনশীলতার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, অনেক সময় গণমাধ্যম বিএনপির সমালোচনা করলেও

দল তা মুখ বুজে সহ্য করেছে কারণ তারা সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অথচ বর্তমান

সময়ে একজন ‘অর্বাচীন বালক’ যেভাবে গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে কথা বলছেন এবং সাংবাদিকদের

হুমকি দিচ্ছেন, তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের

চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রেসের কণ্ঠরোধ করার কোনো

অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

খিলগাঁও বাজারের কর্মসূচি শেষে বিকেলে মির্জা আব্বাস আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ

গ্লোব নিবাস এবং নাভানা বিল্ডিং এলাকায় উঠান বৈঠক করেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে রাতে

তিনি পলওয়েল মার্কেটের পেছনে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারে গণসংযোগ ও স্থানীয়দের

সঙ্গে এক প্রীতি মিলন মেলায় অংশ নেন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও

অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

লক্ষ্য করা গেছে। মূলত কারচুপি মুক্ত নির্বাচন ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই

এখন তাঁর প্রধান দাবি হিসেবে ফুটে উঠেছে।