সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার ও জড়িত সকলের গ্রেপ্তার দাবিতে বাংলাদেশের ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার জন্য আল্টিমেটাম দেন। তিনি বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে এজাহারে নাম প্রকাশ হওয়া আসামিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে ছবি প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায়, নরসিংদীর এসপি ও মাধবদী থানার ওসির অপসারণের জন্য বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউ কার্যালয়ে আয়োজিত এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ ও অন্য নেতারা। তারা বলেন, ২৬ জানুয়ারি ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে ক্র্যাবের পিকনিকের বাসে চাঁদার দাবিতে হামলার ঘটনায় পুলিশ একবারের জন্যও দৃষ্টিপাত করেনি। হামলার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা আইজিপি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আহতদের দেখতে যাননি, যা খুবই দুঃখজনক। næ

শিশুসাংবাদিকরা জানান, হামলার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সন্ত্রাসীরা চিহ্নিত হলেও এখনও তাদের দমন করেনি পুলিশ। বক্তারা বলেন, পুলিশের যোগসাজশে এই চাঁদাবাজরা শাস্তি পায়নি, ফলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি অব্যাহত রয়েছে। এজন্য, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় নরসিংদীর এসপি ও থানার ওসির অপসারণের দাবি জানানো হয়।

ক্র্যাবের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ঘটনার পর রাত জেগে অভিযান চালানোর পরিবর্তে দীর্ঘ অপেক্ষা করে অপরাধীদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে পুলিশ। ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার না করায় প্রশাসনের গাফিলতি প্রকাশ পেয়েছে। বক্তারা বলেন, এই ঘটনার জের ধরে বেশকিছু সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যারা এখন চিকিৎসাধীন। এতে করে দেশের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, এসব ঘটনায় বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিচার ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান উপস্থিত সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। তারা আশ্বাস দেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো কলঙ্কজনক ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি দরকার।