তরুণ ও কাঠামোগত কর সংষ্কার প্রয়োজন: রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি নেত্রের জন্য

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এখনই সময় সমন্বিত ও কাঠামোগত কর সংস্কার চালু করার। সাধারণভাবে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও অদক্ষতা দূর করতে এবং কর ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগে নির্ভর করে থাকলে হবে না। বরং, পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি ওয়ার্কশপের মাধ্যমে গোটা কর ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ‘উন্নয়নের জন্য করনীতি: করব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের জন্য সংস্কার এজেন্ডা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ওপর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবেদনটি বলছে, বাংলাদেশের করব্যবস্থা বর্তমানে অসংগঠিত ও জটিল হয়ে পড়েছে। করের আওতা সীমিত এবং কর প্রশাসন পুরোপুরি কাগজ-কলমের উপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি, অপ্রয়োজনীয় পরোক্ষ করের স্থানে সরাসরি করের অংশ বাড়ানোর দিকে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিতে হবে। সরকারের উচিত জটিলতা কমিয়ে আধুনিক ও কার্যকর করনীতির জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার চালানো।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সুসংহত ও সুশৃঙ্খল করনীতির জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের চেয়ে বেশী প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সংস্কার। প্রান্তিক পর্যায়ে সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। গবেষকরা মনে করছেন, সরাসরি কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও বাণিজ্য কর—এই তিন প্রধান খাতে পরবর্তী সময়ের জন্য নীতিগত পরিবর্তন জরুরি। এর মধ্যে সরাসরি করের ক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে, যা বর্তমানের ৭০ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে ৫০:৫০ অনুপাতে বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯-১০ শতাংশে নিয়ে আসা হবে।

এছাড়া, ভ্যাট ও বাণিজ্য করের অবদান কমিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশ যথাক্রমে ১৫ শতাংশ ও ৭.৫ শতাংশে নামানো প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে রাজস্ব আয়ে সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হবে, মূলত কর-জিডিপি অনুপাত ১৫-২০ শতাংশে উন্নীত করার মাধ্যমে। এতে করে, বাণিজ্য কর থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হবে, যা বর্তমানের তুলনায় ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্বল করনীতি ও প্রশাসনের কারণে নিয়মের বদলে বিবেচনানির্ভর সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে, অপ্রয়োজনীয় নিরীক্ষা, মূল্যায়ন ও উৎসে কর কর্তনের মতো অপ্রত্যাশিত চর্চা গড়ে উঠছে, যা কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। তাই সময় এসেছে করনীতিকে ব্যাকরণ থেকে সরিয়ে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে সাজাতে।