প্রযুক্তির মাধ্যমে গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ: প্রধান উপদেষ্টা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আরও জোরদার করতে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলছেন, আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, আগামী পৃথিবী মৌলিকভাবে অনেকটাই পার্থক্য হবে। বর্তমান যা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না, সেটিই ভবিষ্যতে বাস্তবে রূপ নেবে। পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই বৈশ্বিক গতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া না গেলে, এবং গতি বাড়ানোর উদ্যোগ না নিলে আমরা কতটা পিছিয়ে পড়ব, সেটাই ভাবার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে হতে পারে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। চিন্তা, কাজ ও প্রস্ততির দিক থেকেও আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে।

প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে এই পিছিয়ে পড়ার অবস্থার সৃষ্টি হবে। আইসিটিকে তিনি প্রধান খাত হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এখান থেকেই ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই খাতই হবে দেশের অর্থনীতির চাকার মূল চালক, হাওয়ার মতো, বাতাসের মতো প্রেরণা Verstärkung, যা প্রতিটি অন্য খাতকে নতুন আঙ্গিকে রূপ দিতে সক্ষম।

এ কারণেই এখনই এই খাতের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন, এবং নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এক্সপোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠানে আমরা কী ধরনের আলোচনা করি, ভবিষ্যতের জন্য কী পরিকল্পনা ত করি এবং সে অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলি—সেগুলোর ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে দেশের ভবিষ্যৎ।

প্রজন্মের পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, আজকের শিশুরা প্রযুক্তির সঙ্গে খুব সহজেই সংযুক্ত হচ্ছে, যা একদিকে ইতিবাচক, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেতৃত্বের অভাব কিছুটা তৈরি করছে। বয়স্করা তরুণদের নেতৃত্ব দিতে পারছেন না—সেটা কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নয়, বরং চিন্তার ধরন বা দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যই এই অবস্থা সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশের আইসিটি খাতের কিছু পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির কারণেও সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এর জন্য বাস্তবায়ন করতে হবে ‘ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা’, যেখানে মানুষ সরাসরি সরকারি সেবা পাবেন, সরকারের কাছে নয়। এর ফলে দুর্নীতি কমবে এবং সেবা আরও কার্যকরী হবে।

চার দিনব্যাপী এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই এক্সপো চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান উপদেষ্টার সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।