রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২৬ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রত্যাবাসনই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র কার্যকর ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি গত বুধবার রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নতুন নিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারেই নিহিত এবং এর সমাধানও সেখানে থাকতে হবে। তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরে দীর্ঘকাল ধরে থাকা রোহিঙ্গাদের অবস্থা কোনোভাবেই স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারে না। বর্তমানে শিবিরে বড় সংখ্যক তরুণ প্রজন্ম বড় হচ্ছে, যারা অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত ও ক্ষুব্ধ। প্রযুক্তির সুবিধা থাকলেও কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের সুযোগ না থাকা এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। তাই এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের সম্মানজনক ও নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কাজ করা। বৈঠককালে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধিরা জানাতে চান, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলের ‘নাটকীয় হ্রাস’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা বলেন, শিবিরে বসবাসরতদের আত্মনির্ভরশীলতা ও জীবিকা ভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন জরুরি। ড. ইউনূস জানান, বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আঙিনায় সক্রিয় থাকতে রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শিবির পরিদর্শনসহ বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। তথাপি, এই সমস্যা বিশ্বজোড়া পর্যায়ে যথাযথ মনোযোগ পাচ্ছে না, যা 매우 দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে থাকা রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটছে, যা নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। আলোচনায় ভাসানচর প্রকল্পের পরবর্তীত পরিস্থিতি এবং সেখান থেকে মূল ভূখণ্ডে শরণার্থী বিচ্ছিন্নতার চ্যালেঞ্জগুলোও উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অনেক শরণার্থী ভাসানচর থেকে পালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মিশে যাচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোড়ালো করে তুলেছে। ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধিরা জানান, তাঁদের বর্তমানে নতুন প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন এবং বাংলাদেশে অবস্থানকারীদের সরেজমিন পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৭ সালে পরবর্তীকালে সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন সফর এই মিশনের আন্তর্জাতিক দৃঢ়তায় পরিণত হয়েছে। বৈঠকের শেষ অংশে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে জানান, বাংলাদেশ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা নতুন এক জাতীয় মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে চাই নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে।’ তিনি আরও যুক্ত করেন, প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণ ভোটারদের জন্য এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় করে তোলাই সরকারি লক্ষ্য। তিনি আশ্বাস দেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সব অঙ্গ অচিরেই এই লক্ষ্য পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। SHARES জাতীয় বিষয়: