উত্তর গাজা মুসলিম বসতিও ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ যুদ্ধের মধ্যেই উত্তর গাজা উপত্যকার ধ্বংসপ্রাপ্ত বেইত হানুন শহরের অবশিষ্ট গৃহ ও অবকাঠামো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এই ধ্বংসপ্রক্রিয়া শুধুমাত্র যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ নয়, বরং এটি গাজায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতি বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। আল জাজিরার ডিজিটাল তদন্ত ইউনিট ‘সানাদ’ সরকারি স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ‘সানাদ’ (৮ অক্টোবর থেকে ৮ জানুয়ারি) সময়ের মধ্যে তোলা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনী বুলডোজার ব্যবহার করে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার বর্গমিটার এলাকা পরিষ্কার করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ৩২৯টি বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ও কৃষিজমি রয়েছে, যেগুলো দুই বছরব্যাপী গাজা যুদ্ধে ধ্বংস করা হয়। অপারেশনের আগে তোলা ছবিতে দেখা যায়, বেইত হানুনে অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর অবশিষ্টটা তখনও ছিল। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে অধিকাংশই সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন যেখানে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ছিল, সেখানে শুধু সমতল ধূসর মাটি দেখা যাচ্ছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয় বেইত হানুনের উত্তরের সীমান্তে, যেখানে গাজার সঙ্গে ইসরায়েলের বেড়া রয়েছে। এখান থেকে ইসরায়েলি শহর সদেরোত মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে। ফলে এই এলাকাগুলোতে ভবিষ্যৎ দখল বা বাফার জোন তৈরি করার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে গাজায় ৮১ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় উত্তর গাজায়, যেখানে বেইত হানুনের মতো এলাকায় পরিকল্পিতভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি তারকদের মধ্যে কট্টর ডানপন্থিরাই স্পষ্ট করে বলছেন, গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপনের ইচ্ছে রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, ইসরায়েলের একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সদানতে গিয়ে বলেন, ৮০০-এর বেশি ইহুদি পরিবার দ্রুত সময়ের মধ্যে বেইত হানুন ও বেইত লাহিয়ায় বসতি গড়তে প্রস্তুত। আরেকটি খবর হলো, গত ২৩ ডিসেম্বর এক সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, উত্তর গাজার ‘নাভা নাহাল’ নামে একটি কৃষি-সামরিক ঘাঁটির পরিকল্পনা অগ্রসর হচ্ছে। একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা লং ওয়ার জার্নালকে জানান, বেইত হানুন ধ্বংসের মূল লক্ষ্য হলো এক ধরনের শক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা, যাতে শত্রুপক্ষ তার অবকাঠামো পুনরায় তৈরি করতে না পারে। অপরদিকে, সমালোচকদের মতে, এই সব পরিকল্পনা আরও গভীর লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত। জাতিসংঘের একজন বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজে বলেন, ‘যুদ্ধের আড়ালে ইসরায়েল গাজা ধ্বংস করছে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করছে এবং ভূমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।’ SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: