জুলাই যোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা আনলো অধ্যাদেশ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা এবং দায়মুক্তি প্রদান করতে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এই নতুন আইনটি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে পরিচিত, যার গেজেট রবিবার রাতের দিকে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে, এই অধ্যাদেশের একটি খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছিল। নতুন এই আইনের মাধ্যমে, বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দাঙ্গা-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা সব ধরনের দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামালা, অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মামলার আর কোনো কার্যক্রম নেওয়া যাবে না। এর ফলে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাদের ওপর আর কোনো ধরনের আইনি দমন-পীড়ন চলবে না। অধ্যাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের মানবিক ও নাগরিক স্বার্থে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিস্ট শাসন উৎখাত করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেসময় ফ্যাসিবাদী সরকার কর্তৃক চালানো নিপীড়ন, হত্যা এবং সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ছাত্র-জনতাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। সংবিধানের ৪৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব বলে বিবেচিত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানের সময়কার কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো ব্যক্তি বৈধ মামলা বা অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারের নির্ধারিত আইনজীবীর প্রত্যয়ন তথা স্বাক্ষরের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার করার আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকবে। আদালতে এই আবেদন দাখিলের পর, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো থেকে আর কোনো কার্যক্রম চালানো হবে না। মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হিসেবে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবিলম্বে দায়মুক্তি বা খালাস প্রদান করা হবে। তবে, যদি গণঅভ্যুত্থানের সময় কোনো হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকে, তাহলে সেই বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার ও তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তদন্তের সময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে, পুলিশ বা অন্য কোনও নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক বা বর্তমান সদস্যদের তদন্তের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তদন্ত চলাকালে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কমিশনের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, তবে কমিশন আদালতে সেই প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেটি পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করবে। অন্যদিকে, যদি দেখা যায় যে, অভিযুক্তের কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের জন্য ছিল, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারবে সরকার। এই ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। SHARES জাতীয় বিষয়: