অর্থ, পেশি ও ধর্মের কারণে রাজনীতি ঝুঁকিতে: টিআইবি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই নির্বাচনে মোট প্রার্থীর শতকরা ৩৬ শতাংশের বেশি অংশই ইসলামপন্থি দল থেকে দাঁড়িয়েছেন, যা বিগত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে, রাজনীতিতে অর্থ, পেশি力量 এবং ধর্মের অঙ্গসঙ্গমের কারণে সুস্থ ও স্বাধীন রাজনীতি দিন দিন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখার এ কথা বলেন। এছাড়াও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের রাজনীতিতে অর্থ, পেশি力量 এবং ধর্ম একসঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় সুস্থ রাজনীতি এক ধরনের জিম্মি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে রাজনীতি অঙ্গন সংকুচিত হয়ে পড়ছে, যেখানে অসুস্থ রাজনীতির ড fiberglass কী বলছে কাটিয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, কৃষি জমির ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর জন্য ৫০ একরের বেশি জমি দেখানো নিষিদ্ধ, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট আইন থাকলেও এটি কার্যকর হয় না। ফলে, অবৈধভাবে জমির মালিকানা অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, কারন এ ধরনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জনস্বার্থে বিতরণ করা উচিত।

ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, গত নির্বাচনগুলোতে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল, যেখানে চূড়ান্ত প্রার্থী ছিল ১৯৮১ জন। এর মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। এছাড়া, নারীদের অংশগ্রহণ খুবই নগণ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীর সংখ্যা খুবই কম, যেখানে নির্ধারিত ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা কেউ পূরণ করতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান মূল্য অনুযায়ী শীর্ষকোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫১ জন এবং মোট সম্পদের ভিত্তিতে শতকোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন ২৭ জন। এছাড়াও, দুজন প্রার্থীর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী, তবে তারা হলফনামায় এই তথ্য উল্লেখ করেননি। এর মধ্যে একজনের স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুল আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক এবং সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান। ড. ইফতেখার আরও উল্লেখ করেন যে, অর্থ, পেশি力量 ও ধর্মের অঙ্গসঙ্গমের ফলে রাজনীতি অস্থির ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং অঙ্গনে দখলদারিত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।