প্রধান উপদেষ্টা বললেন, হাসিনা আমলের নৃশংস দিনগুলোতে ফিরতে চায় না জাতি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই জাতি তার ইতিহাসের নির্মম, নৃশংস দিনগুলোতে ফিরে যেতে চায় না। তিনি উল্লেখ করেন, Juliagh স্মৃতি জাদুঘরটি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে কারণ শহীদরা এখনও তার রক্তের সঙ্গে তাজা, যা বিশ্বের জন্য এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই জাদুঘরটি পরিদর্শনে এসে ড. ইউনূস বলেন, এই জাদুঘর শুধু ইতিহাসের স্মৃতি সংরক্ষণ নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা восচানোর একটি প্রতীক। এই দিনগুলোতে নৃশংসতা যেন আর না ঘটে, সেটাই আমাদের সর্বস্তরের মানুষের অঙ্গীকার হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি কেউ দিশেহারা হয়ে পড়ে, এই জাদুঘর তার জন্য পথ দেখার স্থান হবে। প্রতিটি নাগরিকের উচিত এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীদের দল বেঁধে আসা, কারণ এই জাদুঘরে দেখলে অনুভব করা যায় কি নৃশংসতার মধ্য দিয়ে আমরা অতিক্রম করেছি। সেখানে তৈরী আয়নাঘরগুলোতে প্রবেশ করে কেউ চাইলে কয়েক ঘণ্টা বা এক দিন থাকতে পারে, যেন সেখানকার স্মৃতিগুলো গভীরভাবে অনুভব করতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আয়নাঘরে বসে দর্শকরা নিজেদের উপলব্ধি করতে পারবেন কী ধরনের নৃশংসতা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা আর যেন না ফিরে আসে, তার জন্য সবাই একসাথে থাকতে হবে। এই দিনগুলোর নির্মমতা আমাদের মনে রাখাতে হবে, যেন ভবিষ্যত প্রজন্ম এ সব ভুলে না যায়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বেআইনি খুন-আত্মঘাত, গুম-খুনের বিরুদ্ধে তরুণ-ছাত্ররা সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিল। তাদের কাছে অস্ত্র ছিল না, ছিল সাহস ও দেশপ্রেম। এই ঘটনাগুলো আমাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।’ সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে এই জাদুঘর তৈরির কাজ এত অল্প সময়ে সম্ভব হয়েছিল, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এটিতে অনেক তরুণ-তরুণীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। আট মাস ধরে তারা বিনা পারিশ্রমিকে এটি নির্মাণে কাজ করছে। তাদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞ।’ তিনি বলেন, ‘আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আরও কিছু সেকশনের কাজ শেষ হবে এবং নির্বাচনের আগে সবার জন্য এই স্থানটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই জাদুঘর ইতিহাসের এক অদ্বিতীয় চিহ্ন হয়ে থাকবে, যা বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতের রাজনীতি, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প-সাহিত্য চর্চাতেও এই স্থান অপরিহার্য ভূমিকা রাখবে।’ উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এছাড়াও সঙ্গে ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদৃষ্টি ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন মায়ের ডাকের প্রতিনিধি সানজিদা তুলি, গুমের শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় জাতির আদর্শের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, দলিল, সময়ের পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দেখানো হয়। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখানে এসে একটি ১৫ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিবাদী শাসন, গুম-অপহরণ, সরকারের দমন-পীড়ন ও ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। এই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। SHARES জাতীয় বিষয়: