ফ্যাসিবাদী শাসনে নির্বাচন কেন্দ্রিক গুমের সংখ্যা বেড়ে যায় Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ বর্তমান গবেষণা ও তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ভোটের সময় গুমের ঘটনা ব্যাপক ও ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষ, যেমন বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে বেছে বেছে গুমের ঘটনা ঘটত। ২০১২ সালে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা ছিল ৬১টি, যা পরের বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। আবার ২০১৮ সালে গুমের সংখ্যা আরও বেশি ছিল, যা ২০১৯ সালে কমলেও পরবর্তী বছরগুলোতেও পুনরায় বৃদ্ধি পায়। এসব তথ্য নির্ভর করে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন থেকে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সময়কালে গুমের ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগ যে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন এই ধরনের গুমের ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও জনতার অভ্যুত্থানের সময় এই পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠত। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনাগুলি আরও বাড়তে থাকে, যখন নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তদন্ত কমিশনের প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিশন ৪ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে বলা হয় ভোটের সময় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে আটক ও গুম করা হতো। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই গুমের ঘটনা তারিখ অনুসারে নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে অত্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। ২০১৩ সালে গুমের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি তুঙ্গে ওঠে। জলবায়ুর এই রাজনৈতিক সংকটের ফলে নানা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। গুমের শিকার নেতা-কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় জামায়াত ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের। তবে নিখোঁজ হওয়ার বা ফিরে আসার সংখ্যা মিলিয়ে দেখা যায়, বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিখোঁজের সংখ্যা বেশি। মোট নিখোঁজের মধ্যে ৬৮% অর্থাৎ ৪৫৩ জন বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মী, আর ২২% জামায়াতের সদস্য। রাজনৈতিক পরিচয় অনুযায়ী গুমের ধরন ও লক্ষ্য স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনটি মনে করে। এটা বোঝা যায়, গুম সাধারণ আইনি আদালত বা সংস্থার কাজে না, বরং লক্ষ্যভেদ করে হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট ১,০৫৬৪টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে সর্বাধিক ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালে (২১৫টি)। এরপর ২০১৭ সালে (১৯৪টি) এবং ২০১৮ সালে (১৯২টি)। ২০১৯ সালে কিছুটা কমে ১১৮টি, ২০২০ ও ২০২১ সালে গুমের সংখ্যা যথাক্রমে ৫১ ও ৫৬ ছিল। আবার ২০২২ সালে তা আবার বেড়ে ১১০ এ पहुंचে, ২০২৩ সালে কমে ৬৫ এবং ২০২৪ সালে ৪৭টির মতো। উল্লেখ্য, এই বছর আগস্টে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয় শেখ হাসিনাকে। অর্থাৎ, ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে গুমের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, ২০০৯ সালে মাত্র ১০টি দেখা গেলেও ২০১০ সালে sharply বেড়ে ৩৪, পরের বছর ৪৭, ২০১২ সালে ৬১, এরপর ২০১৩ সালে ১২৮, এবং ২০১৪ সালে ৯৫টিতে এসে ধীর ধীরে বেড়ে ২০১৫ সালে আবার ১৪১ হয়। আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনে মোট ১৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়েছিল, যার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১৫৬৯টি অভিযোগ গুমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে রেকর্ড করা হয়েছে। এসব তথ্য স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে, নির্বাচন ও রাজনৈতিক বিরোধের সময় গুমের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকত এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য ছিল বিরোধী শক্তিকে দমন ও দমানো। SHARES সারাদেশ বিষয়: