বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্মুক্ত বাজার নীতি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ২০২৫ সালে চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের মূল্য পৌঁছেছে ৪৫ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে, যা গত পাঁচ বছরে ৪০ ও ৪৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের গণ্ডি ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এই ধারাবাহিক অগ্রগতি কেবল সংখ্যার মাত্রা নয়, বরং এটি বিশ্বের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা ও বিস্তারকেও নির্দেশ করছে। দেশের রফতানি নীতিগুলি এখন শুধুমাত্র পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এক লাভজনক দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের রূপ নিচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষই উপকার পাচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে, বিদেশি বিনিয়োগও ব্যাপকসংখ্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৩ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বাণিজ্য মূল্যবিশিষ্ট বিনিয়োগ, যেখানে ইন্টেলের চেংতু চিপ কারখানা এবং টেসলার শাংহাই গিগাফ্যাক্টরি মত হাইটেক উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বিশ্ব বাজারে আধুনিক প্রযুক্তির সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই কার্যক্রমের ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুবিধা আরও বাড়ছে, কারণ ‘মেড ইন চায়না’ ব্র্যান্ডের সোলার প্যানেল, নতুন জ্বালানির যানবাহন ও গৃহস্থালি সামগ্রী অল্প খরচে দ্রুততায় পৌঁছে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, চীনা পণ্যের অনুপস্থিতিতে দেশটির গড় জীবনযাত্রার খরচ ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যায়। পাশাপাশি, চীনের নবায়নযোগ্য শক্তির প্রযুক্তি—বিশেষ করে সৌর ও বায়ু শক্তি—বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে সহায়ক হয়ে উঠছে, যা বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ দ্বারা সাম্প্রতিক এক বড় অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃত। রফতানি বাড়ার পাশাপাশি, চীন আমদানিতে গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে, যেখানে ২০২৫ সালে আমদানির মোট মূল্য রেকর্ড ১৮ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে এবং গড় শুল্কহার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা, পাশাপাশি হাইনান ফ্রি ট্রেড পোর্টের মতো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আকৃষ্ট হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প-শৃঙ্খল সুবিধার মাধ্যমেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ২০২৫ সালের কেপিএমজি রিপোর্টে, দেখা গেছে যে ৬৪ শতাংশ বহুজাতিক সংস্থা উৎপাদন ও গবেষণা-উন্নয়নে বিপুল অর্থায়নের জন্য চীনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও বলেছেন, ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০২৬-২০৩০) আওতায় তারা উন্নত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ রফতানি, উদ্ভাবনী ব্যবসা, এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঞ্চালন মসৃণ করার জন্য নানা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই পরিকল্পনা সফল করতে চীন ‘চাইনিজ দোকান’ ব্র্যান্ড চালু করবে, পর্যটকদের জন্য করপ্রতিশ্রুতি নীতিকে আরো শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক ভোগ কেন্দ্রগুলো উন্নত করবে। এমন উদ্যোগ ও উন্মুক্তমনভাব বিশ্লেষকরা বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভরকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছেন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: