জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে নতুন নীতি: বাকিতে এলপিজি কেনার সুযোগ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহের স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করতে ও আমদানিকারকদের অর্থনৈতিক চাপ কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নির্দেশনায় জানিয়েছে যে, এলপিজি এখন থেকে ‘শিল্প কাঁচামাল’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে, আমদানিকারকরা প্রায় ৯ মাস বা ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা পাবেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছে। মূলত, এলপিজির জটিল আমদানি প্রক্রিয়া ও দীর্ঘ সময় লাগায় উৎপাদন ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমাতে এই সুবিধা দেওয়া হয়।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণত বড় জাহাজে বাল্ক আকারে এলপিজি আমদানি হয় এবং পরে তা দেশের ভিতরে বিশাল স্টোরেজ ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারে ভরে বাজারে বিক্রি করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আমদানিকারকদের নগদ অর্থের প্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে, গত ২৯ ডিসেম্বর যে ২৭০ দিনের বাকিতে পরিশোধের সুবিধা এলপিজি আমদানির জন্য দেয়ানো হয়েছিল, তা এখন থেকে এই খাতের সব আমদানিকারকদের জন্য ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হলো। এর ফলে বাজারে এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া ও দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই নীতির ফলে আমদানিকারকরা শুধুমাত্র স্থানীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকেই নয়, চাইলে বিদেশি ব্যাংক ও অর্থ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও ক্রেতা ঋণ বা ‘বায়ার্স ক্রেডিট’ গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়াও, দেশীয় ব্যাংকের অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও প্রাপ্ত হওয়া সম্ভব হবে। তবে এসব সুবিধা গ্রহণের সময়, বৈদেশিক মুদ্রার বিধিমালা ও ঋণ সংক্রান্ত সকল নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্তটি জ্বালানি আমদানিতে নতুন গতিশীলতা আনে এবং আমদানিকারকদের ব্যাবসায়িক ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এভাবেই দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।