ট্রাম্পের বিতর্কিত বক্তব্য: আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, আমার আন্তর্জাতিক আইনের কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি এমন বক্তব্য দেয়ার সময় বললেন, তবে তিনি মানুষকে আঘাত করতে চান না। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মার্কিন বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এই মন্তব্য করেন তিনি, এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমসও রয়েছে। খবর আলজাজিরা।

যখন প্রশ্ন করা হয় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রয়োজন আছে কি না, ট্রাম্প বলেন, তিনি অবশ্যই তা মানছেন, তবে এর ব্যাখ্যা মোটেও সহজ নয়। ট্রাম্পের ভাষ্য, এটি নির্ভর করে আপনি কীভাবে আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা দেন। এই ব্যাখ্যার মধ্যে তিনি হয়তো আলোচনার অনেক অদৃশ্য দিক উঁকি দিয়েছেন।

এছাড়াও ট্রাম্প তার পররাষ্ট্র নীতির অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক শক্তির নৃশংস প্রয়োগের ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন। তিনি ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। শনিবার ভোরে এই আক্রমণে রাজধানী কাদেরাসসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায় এবং ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। মার্কিন সেনারা দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গে তাদের তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনাকে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বহুজাতিক সংস্থা ও বিশ্লেষকরা জাতিসংঘের আদর্শ লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, এটি কোনভাবেই বৈধ নয় এবং এর ফলে আঞ্চলিক স্বাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে।

এটি মনে করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধবাজ মনোভাব আরও বেশি সক্রিয় করে তুলেছে। এর আগে ট্রাম্প বেশ কিছু পুরস্কার পেয়ে ছিলেন, যেমন ফিফা শান্তি পুরস্কার।

আক্রমণের পরে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে নিজেদের ক্ষমতায় নিয়ে আসবে এবং দেশটির বিশাল তেল ভাণ্ডার কাজে লাগাবে। সাথে তিনি জানিয়েছেন, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে, রদ্রিগেজের ব্যাপারে ট্রাম্প বলেন, যদি সে সঠিক পথে না যায়, তাহলে তাকে খুব বড় মূল্য দিতে হবে, এমনকি মাদুরোর চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, ট্রাম্প ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন, তারা কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও আঘাতের পরিকল্পনা করছে। এছাড়াও তিনি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণে আবারো তৎপরতা প্রকাশ করেছেন।

জুনে ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনাও করেছিলেন। তাতে তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার স্টিফেন মিলার বলেছেন, বিশ্বব্যবস্থার উন্নতির জন্য এখন থেকে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘নিঃসন্দেহে’ শক্তি প্রয়োগ করবে। তিনি সিএনএন-কে বলেছিলেন, ‘আমরা এখন অবশ্যই একাধিক শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিচালনা করব।’

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা বিশ্বের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন হলো দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নীতিমালা ও আদর্শের সংকলন, যার মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের কনভেনশন ও বহু পক্ষীয় চুক্তি।

অন্যদিকে, বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতির সংগঠনের বিশেষ দূত মার্গারেট স্যাটার্থওয়েট আলজাজিরাকে জানান, আন্তর্জাতিক আইনকে উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিবৃতি অনেকটাই বিপজ্জনক। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই প্রবণতা আমাদের সম্ভবত আবারও সাম্রাজ্যবাদের যুগে ফিরিয়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন অন্য দেশগুলোর আক্রমণ এবং আগ্রাসনের উৎসাহিত করতে পারে, কারণ এসব আইনটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ভয়াবহ কাজ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম নয়, যদি তারা সত্যিই সেটি করতে চায়।