উসমান খাজার বিদায়ী টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়: ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজের চ্যাম্পিয়ন হলো অজিরা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের একজন অন্যতম প্রভাবশালী তারকা উসমান খাজার বিদায়ি টেস্টে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে জয় উপহার দিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন। এই ঘটনাটি ঘটলো সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি), যেখানে অস্ট্রেলিয়া রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এই মাঠে ১৫ বছর আগে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেক হয়েছিল, আর আজ সেই মাঠে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলো। যদিও বিদায়ী ম্যাচে বড় কোনও ইনিংস খেলতে পারেননি খাজার ব্যাট, তবে তাঁর অবদান অজিরা সিরিজ জিততে পারায় তার জন্য গর্বের একটি সূচক। সিরিজের ফলাফল আগেই নিশ্চিত হলেও, সিডনি টেস্টের পঞ্চম দিন পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়ায় দর্শক ও আয়োজকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।

চতুর্থ দিন ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। শেষ দিনে তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪২ রানে অলআউট হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে জিততে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৬০ রান। আগের দিন সেঞ্চুরি করা জ্যাকব বেথেল এদিন আরও ১২ রান যোগ করে ১৫৪ রানে আউট হন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে বিশেষ পারফরম্যান্স দেখান স্টার্ক ও ওয়েবস্টার, যারা প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। ইনিংস শেষ হওয়ার পর, অ্যাসেজ জয় নিশ্চিত করতে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা দ্রুত হয়, যেখানে ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারল্ড দ্রুত ৬২ রান তোলেন। তবে মাঝপথে ৫৯ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ভারসাম্য কিছুটা খুইয়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত মার্নাস লাবুশেনের ৩৭ ও ক্যামেরন গ্রিনের অপরাজিত ২২ রানে ভর করে অজিরা ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে।

প্রত্যক্ষভাবে এই ম্যাচটি ছিল উসমান খাজার জন্য অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি ব্যাটার যখন শেষ বার ক্রিজে প্রবেশ করছিলেন, তখন দুই দলের খেলোয়াড়রা তাকে গার্ড অব অনারে অভ্যর্থনা জানায়। ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ১৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রান করেন তিনি। বিদায়ী সময়ে ঢলে পড়ার সময়, সিডনির সবুজ ঘাসে মাথা নত করে মাঠের মধ্যেই সিজদা নিবেদন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের আবেগতাড়িত করে তোলে। তাঁর এই মহান ক্যারিয়ারের জন্য সবাই দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে সম্মান জানান। খাজার মোট রান ৮০২৪, যেখানে ৮৮ টি টেস্ট, ৪০ টি ওয়ানডে ও ৯ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ১৮ টি সেঞ্চুরি ও এক ডাবল সেঞ্চুরিসহ বড় কী অসামান্য অবদান।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার হাতে অ্যাশেজ ট্রফি তুলে দেওয়া হয়, এবং মাঠে গ্যালারি থেকে দর্শকদের বিশেষ পরিচর্যা ও উৎসাহ দেওয়া হয়। এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়া পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে, কারণ মেলবোর্নের চতুর্থ টেস্ট ছাড়া সব ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে। চতুর্থ টেস্টের জয়ে ইংল্যান্ড হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পেলেও, সিডনি টেস্টে তাদের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। সিরিজ শেষে, অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের জন্য প্রশংসা জ্ঞাপন করেন, আর ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস আশা প্রকাশ করেন সামনে আরও শক্তিশালীভাবে ফিরবে তাদের দল। এই দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটের এই লড়াইটি শেষ হলো এক নতুন অধ্যায় লেখা দিয়ে, যেখানে বোঝা গেলো দুই প্রতিদ্বন্দ্বীরই ক্রিকেটীয় মর্যাদার লড়াইটা কতটা রোমাঞ্চকর ও উচ্চ মাত্রার।