মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ আরোপ দুঃখজনক কিন্তু স্বাভাবিক: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের উপর ‘ভিসা বন্ড’ বা বড় অঙ্কের জামানত আরোপের সিদ্ধান্তটি অনেকের জন্যই দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক হলেও এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিষয়টি আলোচনা করেন। উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভিবাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি খুবই অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বে মোট ৩৭টি দেশের নাগরিকদের উপর এই নিয়ম প্রয়োগ করছে। এই তালিকায় রয়েছে এমন দেশের নাগরিকরাও যারা দীর্ঘসময় ধরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবৈধ অবস্থানে রয়েছে বা অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাস করার অনুমতি পেয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মার্কিন কৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সোশ্যাল সেবা বা সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই কারণেই মার্কিন প্রশাসন কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটাই দেশের জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয় এবং এতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। তবে, এই পরিস্থিতির জন্য তিনি দায়ী করেন বর্তমান সরকারের একক দায়ভার না নিয়ে, বরং দীর্ঘদিনের অভিবাসন নীতি ও জনশক্তি ও রপ্তানির অপ্রতুল ব্যবস্থাপনার ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

উপদেষ্টা বলেন, যদি গত এক বছরে অভিবাসনের নেতিবাচক প্রবণতা বিস্তার লাভ করত, তবে বর্তমান সরকারের দুঃশ্চিন্তা ও দায়বদ্ধতা জোরালোভাবে আলোচনা করা যেত। কিন্তু আসলে এই সংকট দীর্ঘ সময়ের জন্য গভীরভাবে গেড়ে বসেছে এবং এর জন্য দায়ী প্রভাবশালী নীতির ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও অনিয়মিত অভিবাসন। তিনি স্পষ্ট করেন, মানুষের বাইরে যাওয়ার বা অবৈধ পথে যাওয়ার প্রবণতা এককভাবে কোনও সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা যা বছরের পর বছর গেঁথে গেছে।

অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, সরকার প্রথম দিন থেকেই অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য সচেতন। তিনি মনে করেন, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করাই এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করার একমাত্র উপায়। সমালোচকদের দাবী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর ও উদ্ধারকার্য খুবই দুঃখজনক হলেও, এগুলোর পেছনে মূলত আইন ভঙ্গের বিষয় রয়েছে। ভুক্তভোগীদের জন্য স্বদয় মানবিকতা থাকা দরকার, তবে দেশের স্বার্থ ও আঞ্চলিক সম্মান বজায় রাখতে প্রতিটি নাগরিককে আইন অনুযায়ী ও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে বিদেশে যাওয়ার আদেশ দেন তিনি। তিনি বলছেন, এখন আসন্ন মূল লক্ষ্য হলো সঠিক অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন। এই নীতিই এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ।