৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস, খেজুর রস ও অ-মৌসুমি সংক্রমণে সতর্কতা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২৬

দেশের মোট ৩৫ জেলার মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আইইডিসিআর। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছরের চারটি নিপাহ কেসের সবকটিতেই মৃত্যু হয়েছে ১০০% হারসহ, পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি অ-মৌসুমি কেসও পাওয়া গেছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি’ শীর্ষক এক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে এই তথ্য প্রদান করেন সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে বিভিন্ন জেলা যেমন নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারীতে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত চারজন শনাক্ত হয় এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখযোগ্য, নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনায় প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’ ধরা পড়ে, যা শীতের মৌসুমে না এসে আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। শিশুটির সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের লালা বা মূত্র মিশ্রিত বা সংরক্ষিত ফল—যেমন কালোজাম, খেজুর, আম—খাওয়া, যা নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার নতুন ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক পদ্ধতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অতিরিক্ত বলা হয়, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফ্রিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলাগুলোর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর এই চার জন আক্রান্তের সবাই মারা গেছেন, অর্থাৎ মৃত্যুর হার ১০০%। বিশ্বে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২%।

প্রবন্ধে আরও জানানো হয়, ঐতিহ্য অনুযায়ী খেজুরের কাঁচা রসকে মূল উৎস মনে করা হলেও, ২০২৫ সালে নওগাঁর কেস প্রমাণ করে যে বাদুড়ের লালা বা মূত্রের সংস্পর্শে কোনও আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খেলে নিপাহ সংক্রমিত হতে পারে, এবং এটি বছরব্যাপী সম্ভাব। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, যা প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে ঘটে এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে অ-মৌসুমি কেস ও নতুন সংক্রমণের পথ আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। নিপাহ এখন শুধুমাত্র শীত বা খেজুরের রসে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন একটি সারা বছরব্যাপী ও বহুমুখী সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।’

নিপাহ ভাইরাসের জরিপ সংক্রান্ত সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও জানানো হয়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫ জন, এবং সবাই মারা গেছেন। ২০২৫ সালের এই তথ্য ও নতুন সংক্রমণের পথের খোঁজ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।