সাড়ে সাত বছর পর চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা আসল, খালাস শুরু Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২৬ প্রায় সাড়ে সাত বছর পরে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি জাহাজে ভুট্টার চালান পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে এই ভুট্টার খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। এই চালানটি ২০২৫-২৬ মৌসুমে উৎপাদিত মার্কিন পশ্চিম অঞ্চলের নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটার মোট ৫৭,৮৫৫ টন হলুদ ভুট্টা নিয়ে আসা হয়েছে। এটি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে পাঠানো হয়েছে। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশের পশুখাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টার সরবরাহ শুরু হয়, যা তাঁদের পশুপুষ্টি উন্নয়নে নতুন এক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বিলম্বের পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানির উপলক্ষে কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে ‘দ্য রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কৃষি বিষয়ক অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এরিন কোভার্ট বলেন, ‘‘এটি একটি ঐতিহাসিক দিন, আমি খুবই খুশি। আমরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য কাজ করছি। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ প্রথমবারের মতো এত বড় পরিমাণ ভুট্টা বাংলাদেশে এসেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে এই ধরনের আরও ভুট্টা প্রতি বছর ২ মিলিয়ন টন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আমদানি করা ভুট্টার মান ও সরবরাহের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’’ উল্লেখ্য, এই ভুট্টা আমদানি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রধান শস্য রপ্তানিকারক কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন (ইউজিসি)। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধান তিনটি পশুখাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান — নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ (১০ হাজার টন), প্যারাগন গ্রুপ (১৯ হাজার টন), এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড (২৯ হাজার টন) — এই ভুট্টা আমদানি করেছে। সকল ভুট্টা প্রথমে এমভি বেলটোকিও নামের একটি জাহাজে এনে ৩১ ডিসেম্বর কুতুবদিয়ায় পৌঁছে, এরপর ছোট লাইটার শিপে করে ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, এবং নোয়াপাড়া এলাকার বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়। বুধবার খালাসের আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় আড়াই হাজার টনের মতো ভুট্টা খালাস সম্পন্ন হয়। নাহার অ্যাগ্রোর এমডি রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, ‘‘আমরা এখন থেকে এই ভুট্টা আমদানি করে দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারব। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট চাহিদার ৩০ শতাংশ স্থানীয় ভুট্টা দ্বারা পূরণ হয়, বাকিটা বিদেশ থেকে আমদানি করে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তিন মাস আগে এই ভুট্টা আমেরিকা থেকে কিনতে হয়, তার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৪৫ দিন। আগে ভারত ও ব্রাজিল থেকে আনা হলেও এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে দ্রুত আনানো সম্ভব হচ্ছে। এই চালান মোট ডেলিভারিতে ৪৬ দিন সময় লেগেছে।” অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণে এই আমদানি মূল্য সম্পর্কে তিনি জানান, প্রতিটি টনের দাম পড়েছে ২৪৬ ডলার, যা ব্রাজিল থেকে আনা মূল্যের সঙ্গে বেশ কাছাকাছি। তিনি বলেছেন, ‘‘বর্তমানে সম্পর্ক উন্নত হওয়ার ফলে আমদানির সময় আরও কমবে এবং আমাদের উচিত এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।’’ SHARES অর্থনীতি বিষয়: