২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন তারেক রহমান, উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২৬

প্রায় দুই দশক পর, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পা রাখছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও, এখন তিনি সরাসরি নিজ শহরে আসছেন এটাই বড় এক কর্মসূচি। ২০০৩ সালের শীতকালে তার এই জেলার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল, তখন তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে কম্বল বিতরণ করেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর এই সফর উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়েছে।

জেলা বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া বীর শহীদ রায়হানুল হাসান, আল মামুন, সাহান পারভেজ ও রাকিবুল হাসানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি আগামী ১২ জানুয়ারি সড়কপথে ঠাকুরগাঁওতে পৌঁছাবেন এবং শহরের ব্যুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে রাত্রী যাপন করবেন। পরের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার, সকাল ১০টায় তিনি আন্দোলনে শহীদ আল মামুনের কবর জিয়ারত করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করবেন। অন্য শহীদদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সময়ের অভাবে অসংখ্য কর্মসূচি স্থগিত থাকলেও, তাঁদের ত্যাগের মূল্যকে অস্বীকার করা যাবে না।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে মূলত সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করা হবে। সেখানে তারেক রহমান উপস্থিতি দিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করবেন। এই দিনই তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ে রওনা হবেন। জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসরণ করে বড় জনসভা না করে, দোয়া মাহফিলের মাধ্যমেই নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন।

অন্যদিকে, তারেক রহমানের এই সফরকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে সময়ে সময়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সব ধরনের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর কেবলমাত্র এক আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি ভবিষ্যত জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলের তৃণমূল শক্তিকে সমৃদ্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী ও সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই সফরের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীর মধ্যে দলীয় আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী দর্শনের শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। মূলত শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো ও গণতন্ত্র মুক্তির অঙ্গীকার নিয়ে শেকড়ে ফিরে যাচ্ছেন তারেক রহমান।