কঠিন শীতের ঝুঁকিতে জনজীবন ও স্বাস্থ্য, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে কৃষি ও শ্রমজীবীরা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২৬ নওগাঁর বদলগাছিতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হওয়ার পর থেকে দেশে তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বর্তমানে চারটি বিভাগ ও ১২টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে, যা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার মতো জেলাগুলোতে কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার ফলে জনজীবন মন্দাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। সূর্যের দেখা না মেলার কারণে শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জানুয়ারি মাস জুড়ে এই শীতের দাপট থাকতে পারে, তবে পরে কুয়াশার তীব্রতা কমবে এবং তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যেতে পারে। শীতের এই অবস্থা বিশেষ করে শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দিনমজুর, রিকশাচালক ও নির্মাণ শ্রমিকেরা এখন জীবিকার জন্য সমস্যার মুখে। বাইরে কাজ কমে গেছে এবং সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যশোর, সাতক্ষীরা মতো অঞ্চলে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকের সংখ্যা অর্ধেকেরও কমে গেছে। সাতক্ষীরায় তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে সর্বশেষ ৫০ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে נמ্নস্তর রেকর্ড হয়েছে। অনেক রিকশাচালক বলেছেন, ঠান্ডার কারণে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে, যাতে তারা দীর্ঘ সময় রিকশা চালাতে পারছেন না; ফলে দৈনিক উপার্জন খুব কমে গেছে এবং পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাত ও ভোরে ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহনের চলাচল মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও শীতজনিত সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২০ দিনে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে নয়জন শিশু। হাসপাতালের শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডগুলো এখন রোগীতে ঠাসা, যেখানে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে অনেক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দা বা মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন, শিশুদের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ও গরম পোশাক পরানোর ওপর গুরুত্ব দিতে। একইভাবে নীলফামারী হাসপাতালেও শিশু ও নবজাতকদের শ্বাসতন্ত্রের রোগের বাড়ির প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে, যেখানে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শীতের মধ্যে শিশুদের গরম কাপড় ও গরম খাবার নিশ্চিত করতে হবে এবং বাসি খাবার এড়াতে হবে। শীতের এই করুণ পরিস্থিতি দেশের কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরণের ক্ষতি ডেকে আনছে। 특히 দিনাজপুর ও উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলাগুলোতে বোরো ধানের বীমা ও চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে বীজে পচন ধরে যাচ্ছে এবং চারাগুলো হলদে হয়ে মারা যাচ্ছে, যা কৃষকদের বড় লোকসানে ফেলেছে। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখে এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে ব্যবহার করে। শীতার্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে বিভিন্ন জেলা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছে। সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক রাতভর গ্রামে গ্রামে গিয়ে কম্বল বিতরণ করছেন, তবে চাহিদার তুলনায় এই সহায়তা এখনও অপ্রতুল বলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন। এই হাড় কাঁপানো শীতে পুরো দেশ এখন এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমজীবী ও শিশু—সবাই অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। SHARES জাতীয় বিষয়: