বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসায় জামানত নিশ্চিত করতে হবে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা এবং পর্যটনের জন্য যান বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বি-১ ও বি-২ ক্যাটাগরিতে ভিসার জন্য আবেদন করলে প্রত্যেক আবেদনকারীকে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড জমা দিতে হবে। মূল লক্ষ্য হলো ভিসার অপব্যবহার রোধ করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্বচ্ছলভাবে দেশে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা। এই কঠোর নিয়মটি বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল, ভুটানসহ আরও ৩৭টি দেশে প্রযোজ্য হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকেরা নির্ধারিত সময়ের পরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকার প্রবণতা বেশি, তাদেরকেই এই নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিসার জন্য আবেদনকারীদের জন্য কনস্যুলার কর্মকর্তারা এই জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীরা এই প্রক্রিয়ার জন্য হোয়াইট হাউসের নির্দিষ্ট ফর্ম ‘I-352’ পূরণ করতে হবে এবং অর্থ জমা দেওয়ার জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’ ব্যবহার করতে হবে। তবে মনে রাখা দরকার, এই জামানত বা বন্ড জমা দেওয়া মানেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। যদি কোনও আবেদনকারী কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া কোনও ফি বা জামানত আগে থেকেই জমা দেন, তবে সেই অর্থ ফেরত পাবেন না। এই নতুন নিয়মের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো, দেশটিতে প্রবেশের পর পর্যটক কিংবা ব্যবসায়ীরা আইন মেনে সময়মতো দেশে ফিরে যাবেন নিশ্চয়তা প্রদান।

নতুন নিয়মে ভিসাধারীদের যাত্রার জন্য নির্ধারিত কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। জামানত জমা দেওয়া ভিসাধারীদের অবশ্যই নির্দিষ্ট তিনটি প্রধান বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং প্রস্থান করতে হবে। এই বিমানবন্দরগুলো হলো— বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK), এবং ওয়াশিংটনের ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)। অন্য কোনো পথে যাত্রা করলে এই নিয়ম ভঙ্গ হবে, এবং সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে প্রবেশ বা প্রস্থানের অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সূক্ষ্মভাবে রেকর্ড করবে, যা পরবর্তীতে জামানতের ভবিষ্যত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।

সবশেষে, এই জামানতের অর্থ ফেরতের বিষয়টি পুরোপুরি ভিসার শর্ত মানা এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অভিবাসন সম্পন্নের ওপর নির্ভর করছে। যদি কোনও পর্যটক বা ব্যবসায়ী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা মেয়াদ শেষের দিনে নিয়ম মেনে দেশে ফিরে যান, তবে তাঁদের জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়াও, যদি কারো ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় বা ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণ না করে থাকেন, তাহলেও অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে, নির্ধারিত সময়ের বেশি থাকা, বা গিয়ে কোনও রাজনৈতিক আশ্রয় বা অন্য কোনো অবৈধ অভিবাসনের চেষ্টা করলে সেই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এই পদক্ষেপ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।