হিলি দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ঘোষণা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২৬

দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কাছ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার এই অনুমতি পুনরায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে থেকে নতুন করে ভারতের থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ইমপোর্ট পারমিট বা আইপি ইস্যু বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন অনুমতিপত্র দেয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে, যারা আগের অনুমতি পেয়েছে, তারা ৩০ জানুয়ারির মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি চালিয়ে যেতে পারবেন। মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজের সঠিক দাম নিশ্চিত করা এবং মহামারির বাজারে আমদানিকৃত পণ্যের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন বলেন, ৭ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত আমদানির ফলে বাজারে দাম কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নামছিল। কিন্তু নতুন অনুমতি বন্ধের খবর শুনে বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে; এখন প্রতি কেজিতে দামের মধ্যে প্রায় ২ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, আমদানির পুরোপুরি বন্ধ হলে পেঁয়াজের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তা ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় পৌঁছতে পারে, যা সাধারণ ভোক্তার জন্য অনেকই অসুবিধার কারণ হবে। সোমবার হিলি বন্দরে ১২ ট্রাকে ৩৪৪ টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেছে, তবে এগুলো আগের অনুমতির বিপরীতে আনা চালান।

হিলি উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্ত ইউসুফ আলী নিশ্চিত করেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় নতুন কোনো আইপি দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, আগের অনুমতিগুলোর মেয়াদ ৩০ জানুয়ারির মধ্যে রয়েছে, ফলে সেই সময়ের মধ্যে মালবাহী ট্রাকগুলো দেশে প্রবেশ করতে পারবে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বাজারের ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা দামের জোরদার সুযোগ নিতে পারেন। বর্তমানে বন্দরের আমদানিকারকরা এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।