তারেক রহমানের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২৬

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সতর্ক ও দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার এক সার্বজনীন রাজনৈতিক সভায় তিনি রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ মন্তব্য করেন। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের লড়াই ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা অতি দ্রুত কাজে লাগানো প্রয়োজন। দেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীল গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দলের সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন মতবিরোধ থাকলেও দেশের স্বার্থে সকলের সহযোগিতা জরুরি, কারণ এ সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একযোগে একত্রিত হওয়াই হলো এখনকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারেক রহমান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থে সব দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নকল্পে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শিগগিরই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।

বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। মূল আলোচনার বিষয় ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকাল, আসন্ন নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গ। তারেক রহমান বারবার উল্লেখ করেন যে, ভিন্ন মতাদর্শের মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি, যাতে এক সুন্দর, উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দল ও দেশের জনগণের স্বার্থে একযোগে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভার প্রথমে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁরা কার্যালয়ে সংরক্ষিত স্মৃতিচিহ্নে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তারুণ্য ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হকসহ প্রায় এক ডজনেরও বেশি শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। বিএনপির মিডিয়া সেল এই সফরকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জাতীয় সংহতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুক্ত ছিলেন দলের নেতাকর্মীরা।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মূল্যবান মতামত ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, প্রতিনিধিদলের সাথে উপস্থিত ছিলেন ডা. মুশতাক হোসেন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, ইকবাল কবীর জাহিদ ও মোশরেফা মিশুর মতো রাজনৈতিক অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা। তারেক রহমান সবশেষে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উত্তরণে কাজ করতে হবে এবং রাজপথের শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।